পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা কবিতা
সুকান্ত স্মরণ
সুদক্ষিণা গুপ্ত
বাংলার সাহিত্যকাশে জাজ্বল্যমান রবি,
সেই সময়ে হচ্ছে বড় ছোট্ট কিশোর কবি।
কবি তো নয় শুধু, সে তো গল্প নাটক লেখে,
তবুও তার মন কেঁদে যায় গরিব দুঃখী দেখে।
পরাধীন দেশে তখন গরীবি সীমাহীন,
বেশিরভাগ লোকের তখন চলে না তো দিন।
মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ধান গোলাভরা ,
কলের মালিক কারো ব্যাঙ্ক কালো টাকায় ভরা।
শ্রমিক কৃষক, ক্ষেতের মজুর, পায় না খেতে ভাত,
বস্ত্র নেই, ঘরও নেই, কাটে না দিনরাত।
তারই মধ্যে দুর্ভিক্ষ, কত মানুষ মরে,
এসব দেখে কিশোর কবির দুঃখে অশ্রু ঝরে।
বিশাল এক অসাম্য সমাজখানা জুড়ে,
যুদ্ধে কিছু হয়েছে মানুষ ধনী মাটি ফুঁড়ে।
কবির কলম গর্জে ওঠে প্রতিবাদের ভাষায়,
একইসঙ্গে মানুষকে তা চোখের জলে ভাসায়।
পূর্ণিমা চাঁদ প্রেমের তো নয়, রুটির প্রতিরূপ,
ক্ষুধা এমন ভয়ঙ্কর, সে থাকে না আর চুপ।
শুকনো গদ্যে ভরা যেন এ পৃথিবী খানা,
খাওয়াও নেই, পরাও নেই, সমস্যাও নানা।
তাই তো কবি লড়ে চলেন, কলম করে অস্ত্র,
ভবিষ্যতের সমাজ ভেবেও হয়ে পড়েন ত্রস্ত।
সহানুভূতি, ভালোবাসায় যে মন ছিল ভরা,
অকালেই চলে যাবার কিসের ছিল তাড়া?
ওই প্রতিভা এই পৃথিবীর সহ্য হলো না যে,
হারিয়ে গেলো কিশোর কবি বিশ্বলোকের মাঝে।
একুশ বছর বয়সে তার এই পৃথিবী ছাড়া,
তবুও সে তো রেখে গেলো ছাপ বাংলাজোড়া।
একশো বছর পেরিয়ে গিয়েও রয়েছে এই ক্ষণে,
সুকান্তকে স্মরণ করি শ্রদ্ধাযুক্ত মনে।

