দ্য ফরগটেন আর্ট অফ জি সি চক্রবর্তী : সংহিতা রায়
সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার বিড়লা একাডেমিতে প্রদর্শিত হল বেঙ্গল মডার্নিজমের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী গোপেশ চন্দ্র চক্রবর্তী ওরফে জি সি চক্রবর্তীর রেট্রোস্পেক্টিভ স্ট্রেঞ্জার ফর্মস: দ্য ফরগটেন আর্ট অফ জি সি চক্রবর্তী’।
রাজকোটের বিখ্যাত ‘দ্বিজা গ্যালারি’-র উদ্যোগে এবং ‘দ্বিজা কনসারভেশন সোসাইটি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ’-এর পরিচালনায় আয়োজিত হয় শিল্পীর প্রথম বড় মাপের একক প্রদর্শনী। আগামী ১৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত।
বিড়লা একাডেমির এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর করা অয়েল পেন্টিং-এর পাশাপাশি ছিল স্কেচ, ইলাস্ট্রেশন এবং বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক নথিপত্র।
১৯০৫-এ সিলেটে জন্ম গোপেশ চক্রবর্তীর। ছোটবেলা কেটেছে জয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে সুরমা উপত্যকায়। শেষ কৈশোরে বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হলেন।
রং-তুলির জীবন শুরু হয়েছিল একেবারে ছোটবেলায়। প্রচণ্ড দারিদ্র্যের জীবন। আর্ট কলেজে পড়াকালীন রেলস্টশনে, ফুটপাতে রাত কাটাতে হয়েছে. এক একদিন ভাত পর্যন্ত জোটেনি। এই অসম লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে এক সময় ছাড়তে হয় প্রিয় আর্ট কলেজ।
এই লড়াই কখনও অর্থনৈতিক সংকট কখনও বা আত্মসংকটের বিরুদ্ধে। জীবনের জয় পরাজয়, তিতিক্ষা, নৈরাশ্য প্রভাবিত করেছে তাঁর ক্যানভাসকেও। তাঁর ছবি মানুষের বিপন্নতার কথা বলে। দেশের অস্থিরতা, স্বাধীনতা আন্দোলন, মন্বন্তর, দাঙ্গা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ধরা পড়েছে রঙে-রেখায়। সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশাও লুকিয়ে রাখেননি। পাকিস্তানের জেনারেল অত্যাচারী ইয়াহিয়া খানের ছবি এঁকেছেন। আবার এঁকেছেন মহাত্মাকেও। তাঁরা ‘বাপু’ প্রশ্ন করে জাতিকে। সংশয়ী হয়। তিনি স্বাধীন কাজের পাশাপশি করেছেন বাণিজ্যিক কাজও। যা মূলত ইলাস্ট্রেশন।
গোপেশ চক্রবর্তীর গোড়ার দিকের কাজে বেঙ্গল স্কুল ঘরানার বিশিষ্ট শিল্পী ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদারের প্রভাব পাওয়া যায়। গ্রন্থ-অলঙ্করণের কাজে রুশ ও পূর্ব ইউরোপীয় অনুবাদ-সাহিত্যের বইগুলিতে আঁকতেন।
রামকৃষ্ণ মিশনের শিষ্য ছিলেন। রামকৃষ্ণদেবের দর্শনকে গ্রহণ করেছিলেন অন্তরে। আধ্যাত্মিক দর্শন যেমন এসেছে তেমনি এসেছে শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতি আর ধর্মের নামে ভণ্ডামির ছবিও। সমাজের ক্ষতকে ধরেছেন নানা মুখের জটিল রেখায়। ছবির আলো-আঁধারি মনে করাও গগণেন্দ্রনাথকে।
কলকাতা ছাড়াও গৌহাটি, জোড়হাট, তিনসুকিয়া, শিলং আবার মণিপুর, নাগাল্যান্ডের কোহিমা, ইম্ফল থেকে বিহারের দেওঘর– নানা জায়গায় পাঁচের দশকে ছবির প্রদর্শনী করেছেন গোপেশ।
তাঁর ছবির দুনিয়ার কেন্দ্রে ছিল সাধারণ মানুষ। তাদের জীবন, ব্যাথা, যন্ত্রণাকে তিনি ক্যানভাসে ধরতেন। তাই গ্যালারিতে নয়, ক্লাবঘরে, হলঘরে– যেখানে জায়গা পেয়েছেন, প্রদর্শনী করেছেন।






