‘সই-সাবুদ’। আয়োজনে ‘কলকাতা কথকতা’ – সংহিতা রায়
খাতা ভরা অটোগ্রাফ…
——————————–
খাতা ভরা অটোগ্রাফ,
গুচ্চের ফটোগ্রাফ,
নানা দেশের ডাকটিকিট,
হোমড়া চোমড়া সার্টিফিকেট-
চার লাইনের ছড়া। ১৯৫৮ সালে লেখা। ছড়ার নিচে স্বাক্ষর-পরশুরাম। এ হল ছদ্মনাম। নামের মালিক রাজশেখর বসু। নেহেরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামে আয়োজিত অটোগ্রাফ প্রদর্শনী ঘুরে দেখলে মনে হবে এ ছড়া যেন এই প্রদর্শনীর জন্যই লেখা।
এখন আর কারও সইয়ের দাবি থাকে না। সেলফির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে অটোগ্রাফ। অটোগ্রাফ খাতার সংগ্রহও দুরস্ত। অথচ এক সময় সই সংগ্রহ ছিল জনপ্রিয় নেশা। শিশু-কিশোর তো বটেই, বড়রাও কম যেতেন না। যখের ধনের মতো আগলে রাখা হত অটোগ্রাফের খাতা! প্রিয় তারকার দুর্লভ সই জোগাড় করতে কতদূর যেতে পারে অনুরাগী, তার রুদ্ধশ্বাস গল্পও শোনা যেত হামেশাই। কিন্তু এখন সইয়ের নেশা মানুষের কাছে প্রাক্তন। হারানো সময়ের হারানো নেশাকে এবং সংগ্রহকে আবার মনে করিয়ে দিতেই নেহেরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামে সম্প্রতি আয়োজিত হল দুর্লভ সই প্রদর্শনী ‘সই-সাবুদ’। আয়োজনে ‘কলকাতা কথকতা’। চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, উজ্জ্বল সরদার, ফাল্গুনী দত্তরায়-সহ মোট ১৩ জন সংগ্রাহকের সংগ্রহ দেখার সুযোগ পেলেন মানুষ।
১৭৮২ সালে ভারতের প্রথম মুখ্য বিচারপতি এলিজা ইম্পের চিঠি যেমন ছিল তেমনই ছিল লর্ড কার্জনের সই। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দলাইলামা থেকে অমিতাভ বচ্চন। অর্মত্য সেন থেকে কপিল দেব, শচীন তেন্ডুলকর। কারও সই বইয়ে, কারও চিঠিতে, জার্সিতে, কারও আবার সিমেন্টের ব্লকে। বাঙালি লেখকদের সই করা বই থেকে উত্তমকুমারের হাতে লেখা চিঠি। হাল আমলে চর্চিত গোপাল মুখোপাধ্যায়ের হাতে লেখা চিঠিও রয়েছে।
এত সইয়ের মধ্যে দর্শকদের চোখ টেনে নিয়েছিল ফ্রেমে বাঁধানো একটি লাল রঙের হাতের ছাপ। নন্দলাল বসুর ডান হাত।
পি সি সরকার জুনিয়র অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেছিলেন জ্যোতি বসু, চিন্তামণি কর, সত্যজিত্ রায়ের কাছ থেকে। কিন্তু সেটি ছিল সিমেন্টের উপর। সিমেন্টের উপর করা সেই অটোগ্রাফও রাখা হয়েছে এখানে। ছিল তাঁর বাবা জাদুসম্রাট পিসি সরকারের স্বাক্ষরও।
বিষেণ সিং বেদি থেকে ভিভিএস লক্ষণ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রোহিত শর্মা সহ বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সই করা ছোটো ছোটো ব্যাট নজর কেড়েছে ছোটদের। প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে আর্জেন্তিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির একটি জার্সি।
প্রদর্শনীতে স্কুলপড়ুয়াদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে অটোগ্রাফ সংগ্রহের ইতিহাস, গুরুত্ব এবং এর বিভিন্ন দিক।
‘কলকাতা কথকতা’র তরফে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সই নিয়ে একটি অটোগ্রাফের খাতাও প্রকাশ করা হয়েছে





