।।কাশফুল এক ম্যাজিকের নাম।। – ডা. গৌরব রায়
কাশফুল এক ম্যাজিকের নাম।
যারা যারা ভালোবাসতে পারে তারা নাকি কাশফুল ফোটাতে পারে অনায়াসে। আকাশের নাম ধরো লালন ,আকাশের নাম শাহ আবদুল করিম।আমাদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে, রাগ কমে যাচ্ছে , মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়ার মধ্যে জীবন, অভিমান বাড়ছে, রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ছে ,ভিটামিন ডি কমছে, রোদ কমছে মন মেঘলা , টেলিফোন সবার বিজি, শহরে শুকিয়ে যাচ্ছে জল,তবে চোখের জল বাড়ছে,মায়ের টেনশন বাড়ছে , আকাশের দিকে তাকালে শ্বাসকষ্ট আর ইনহেলার আর অঞ্জন দত্তের প্রিয় বন্ধু শুনতে ইচ্ছে করবে তোমার।
তবু কাশফুল ফুটলে কোথাও জানি কারোর ফেরা হবে ঠিক,
অষ্টমীর সকালে ভেজা চুলে শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবির দেখা হয়ে যাবে, হলুদ ট্যাক্সি করে কেউ নামবে শহরে, ফিরবে নিজের বাড়িতে।আমাদের সব না পাওয়া, আক্ষেপ, ভেঙে যাওয়া আড্ডা , ছেড়ে যাওয়া পাড়ার চায়ের দোকান ,পুরোনো গিটার শরতে সারারাত নিবিড় হয়ে জ্বলবে কাছাকাছি আবার। কাশফুল হতে গেলে কি লাগে মনেকেমনের হাওয়া না বিরহী রেনকোট বা বনমালীর বাঁশি?স্বামীহারা নদীর ধারে আবছা নৌকো , অপু দুর্গার দৌড় বারবার কাশবনের আগেই থামবে তার ওপারে কি আছে জানা হবে না কোনোদিনই। অবান্তর স্মৃতির ভেতর অশ্রু ঝলমল মুখ ভেসে উঠবে।
জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হয়ত শ্মশান তার সাথে কথা হয় সবার শেষে।অনেক গল্প হয়। আমরা সবাই যখন মৃত।তবুও কি আশ্চর্য এই কাশফুল ফুটে ওঠা আর তোমার পায়ের কাছে ঝরে যাওয়া শিউলি ফুল সেই দৃশ্য বারবার রিপ্লে করে দেখছি।মনে পড়ে যাচ্ছে সব জাতিস্বরের মত।খালি পায়ে দৌড়চ্ছে নকশি কথার মাঠ। আমাদের পূর্বজন্ম।নদীমাতৃক।
“ওই দূরে নদীকে সানাই করে বাজাচ্ছেন বিসমিল্লাহ”। ভোর হচ্ছে দেখো।আমাকে একবার কাশফুল হতে দিও। সুদিন এদিকে এসো। এসো কবিতার ছায়ায় ভালোবাসি। সেই গানটা বাজছে “অমরত্বের প্রত্যাশা নেই নেই কোনো দাবি দাওয়া এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া”।
