আসছে বছর……… দেবমিত্রা ঘোষ রায়
গল্পটা আজ থেকে বছর ছয়েক আগের। তখন সারা বিশ্বের পরিস্থিতি অন্যরকম। করোনা ভাইরাসের কবলে সারা বিশ্ব। কলকাতায় সবে মাত্র লক ডাউন উঠেছে। তবুও সব অনুষ্ঠানে বেশ কড়াকড়ি নিয়ম।
কিন্তু শরতের আগমন তো কোন লক ডাউন মানে না। আর বাংলার ঘরে, ঘরের মেয়ের আগমনও আটকে থাকে না। সমস্ত কড়াকড়ি, নিয়ম এর মাঝেই সেজে উঠেছে বাংলা, বাদ যায়নি উত্তর কলকাতার শান্তি ঘোষ ইউথ ক্লাবের পুজো।
অষ্টমীর সকাল, মাইক বাজছে প্যান্ডেলে, “যারা যারা অঞ্জলি দেবেন, তারা সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনে এগিয়ে আসুন। অবশ্যই মাক্স পরে আসবেন। প্যান্ডেলের সামনে আমাদের ভলান্টিয়ার আছে, আপনার হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে নেবেন।”
এরই মধ্যে শাড়ির আঁচল টা ঠিক করতে করতে প্যান্ডেলে এর দিকে এগিয়ে তনুজা। একে এই গরম তার ওপর এই মাস্ক। উফফ, ঝামেলার ব্যাপার। মণ্ডপে যা ভিড়, করোনা কে কেউ আটকাতে পারবে বলে তো মনে হয় না। যাই হোক, ভিতরে মনে হয় এতটা ভিড় নেই। যদিও পাড়ার ছেলেগুলো চাঁদা কাটতে গিয়ে বলে এসেছিল, “তনু দি একদম চিন্তা করো না। প্যান্ডেলে Social Distancing মানা হবে। নিশ্চিন্তে থাকো।” সেসব তো সবই মানছে।
প্যান্ডেলের ভিতরে সত্যিই ভিড় টা কম। বাইরে ভিড় টা মূলত লোকজন ঢুকছে আর বেরোচ্ছে বলে।
তনুজা একটু এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে পিকলু ডাকলো,
__ তনু দি…… Sanitizer টা….
__ ওহ হ্যাঁ….
পিছন ঘুরতেই তনুজা থমকে দাঁড়ালো। পিকলুর পাশেই নীল রঙের পাঞ্জাবী পড়া, হাতে একটা ঘড়ি, যেটা তনুজা র ভীষণ চেনা, একটা ছেলে।
উজান। তনুজা সমস্ত কিছু ভুলে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল উজানের দিকে। উজানও মণ্ডপের বাকি সমস্ত কাজ ভুলে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে রয়েছে তনুজার দিকে।
নিস্তব্ধতা কাটলো পিকলু র ডাকে,
__ তনু দি Sanitizer টা নাও।
__ ওহ হ্যাঁ দে।
__ এই নাও।
Sanitizer টুকু হাতে মেখে নিয়ে তনুজা একটু সরে দাঁড়ালো। উজান তনুজার দিকে এগিয়ে এসে বললো,
__ কিরে, কেমন আছিস?
__ ………
__ কি দেখছিস অমন করে? চিনতে পেরেছিস তো?
__ না চেনার তো কথা নয় উজান দা।
__ কেমন আছিস?
__ কবে এসেছ?
__ কাল রাত্রে।
__ ওহ.. কেমন আছো?
__ এই যেমন টা দেখছিস। তুই?
__ যেমন টা ছেড়ে গেছিলে…. অস্ফুটে বলে উঠলো তনুজা।
__ তনু…
হঠাৎ মাইকে শোনা গেলো, “যারা যারা অঞ্জলী দেবেন, এগিয়ে আসুন। কেউ ফুল ছুঁড়বেন না।”
__ উজান দা অঞ্জলী টা দিয়ে নি…..
__ হ্যাঁ চল। আমিও দেবো।
বহু বছর আগেকার কথা। তনুজারা তখন এই পাড়ায় নতুন বাড়ি করে আসে। তনুজার তখন ক্লাস নাইন। নতুন পাড়া, নতুন স্কুল, তনুজার একটু অসুবিধাই হচ্ছিল বটে।
উজান তখন সেকেন্ড ইয়ার।
তনুজার পড়াশুনোর অসুবিধের কথা ওর মা বলেছিল পাড়ার মহিলা মহলের আড্ডায়। পাশের বাড়ির মিতা কাকীমা তনুজার মা কে বলেছিল, “উজান কে বলে দেখো না একবার। যতদিন না প্রাইভেট টিউটর পাচ্ছ, ও না হয় তনু কে সাইন্স আর অঙ্ক টা একটু দেখিয়ে দেবে। উজান আমাদের পাড়ার গর্ব, খুব ভালো ছেলে। উচ্চমাধ্যমিক এ সবেতে লেটার পেয়েছে। খুব ভালো ছেলে।”
এর বেশ কিছুদিন পর থেকেই উজান পড়াতে আসতো তনুজা কে রোজ সন্ধে বেলা। সন্ধে ৭টা থেকে ১০টা অবধি চলতো পড়াশুনো। যেমন কড়া শিক্ষক, তেমন মনোযোগী ছাত্রী। দেখতে দেখতে তনুজা র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলো। উজানের কাছে পড়ে মাধ্যমিকে দুর্দান্ত রেজাল্ট করলো তনুজা।
ক্লাস ইলেভেনের সময় থেকে যখন উজান পড়াতে আসতো তখন কড়া ভাবটা খানিকটা কমেছে। পড়াশুনোর পাশাপাশি চলত অল্প স্বল্প গল্প আড্ডা। ধীরে ধীরে শিক্ষক ছাত্রীর পরিধি বন্ধুত্বের পর্যায় পৌঁছে যেতে বেশী সময় লাগেনি।
__ কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করে বসে আছি, এতক্ষণ এ আসার সময় হলো তোমার? Physics এর অঙ্কগুলো আটকে আছে।
__ অঙ্কের জন্য অপেক্ষা নাকি………
__ আরে বসো বসো, জানো আজকে কি হয়েছে?
__ কে আবার কাকে প্রপোজ করল?
__ আরে প্রীতম, রিয়া কে। বেশ মানিয়েছে কিন্তু ওদেরকে।
__ এই থাম। পড়াশুনো নেই কোনো। খালি এইসব। মাধ্যমিকের রেজাল্ট ভালো হয়েছে মানে এই নয় যে উচ্চমাধ্যমিক এও ভালো হবে। আর এইসব করলে তো…..
__ উফফফ। এত বকো কেন? ধুর তুমি যে এত কেনো গম্ভীর!! এই যে এই গুলো।
__ অঙ্কগুলো কর। এই সোজা সোজা জিনিসগুলো এখনও আটকাচ্ছে কেনো? পরীক্ষার আর ৩ মাস বাকি তনু।
__ করছি। ধুর।
দেখতে দেখতে তনুজা র উচ্চমাধ্যমিক শেষ। এখন রেজাল্ট এর অপেক্ষা। আর উজানেরও ওদের বাড়িতে আসাটাও বন্ধ প্রায়। ওই দোকানে গেলে বা বাড়ির ছাদে উঠলে যা একটু দেখা সাক্ষাৎ।
এরপর বেরোলো তনুজার উচ্চমাধ্যমিক এর রেজাল্ট। আর ঠিক যেমন টা প্রত্যাশিত, তনুজার দুর্দান্ত রেজাল্ট। সকলেই খুব খুশি। উজানও।
হঠাৎ একদিন উজান ফোন করলো তনুজা কে।
__ দেখা করতে পারবি? আজকে, বিকেল, চারটের সময়, গঙ্গার ধারে?
__ কি কেস?
__ আরে ভাল রেজাল্ট কড়েছিস। ঘটিগরম খাওয়াব ।
__ আচ্ছা যাব।
তনুজা বেরোলো। অনেকদিন ধরেই ও ভাবছিলো উজান কে একটা কিছু উপহার দেবে আর অবশেষে ওর মনের কথাটা বলবে যেটা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য এতদিন বলা হয়ে ওঠেনি। একটা সুন্দর ঘড়ি কিনে তনুজা যখন হাজির হল গঙ্গার ধারে, তখন চারটে বেজে দশ।
__ তুই একটুকু পাংচুয়াল হলি না তনু। চারটে দশ বাজে। কখন আসার কথা ছিল? চারটের সময়!
__ কাজ ছিল একটা আমার।
__ তোর আবার কি কাজ?
__ ছিল ছিল। কাজ ছিল একটা। বল ডাকলে কেন?
__ congratulations তনু তুই আমার মান রাখলি।
__ হাহাহা সেই….
__ শোন না তনু…
__ হ্যাঁ বল
__ আমি চাকরী পেয়েছি।
__ ওমা কি ভালো ব্যাপার। এত দারুন খবর। এই নাও এটা তোমার জন্য।
__ এটা কি???
__ দেখো…
উজান প্যাকেটটা খুলে দেখল________
__ পাকা মেয়ে এটা কে কিনলো?
__ আমি। টাকা জমিয়েছিলাম তোমার জন্য কিনবো বলে।
__ তাই নাকি? খুব সুন্দর হয়েছে।
__ পছন্দ?
__ খুব সুন্দর খুব সুন্দর। এটা পড়েই সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরোবো…
__ মানে??
__ মানে আমি USA চলে যাচ্ছি। চাকরী পেয়েছি বললাম না।
__ তুমি আমেরিকা চলে যাবে?
__ হ্যাঁ রে বাবু কাল বিকেলে। দু মাস আগেই জানতে পেরেছি যে চাকরিটা আমি পেয়েছি। তারপর পাসপোর্ট__ভিসা তোর পরীক্ষা সব হল। এবার ফাইনালি যাব।
__ ও
কেমন যেন মুশরে পড়ল তনুজা।
__ ভালো থেকো। সাবধানে যেও।
__ হ্যাঁ রে। তুই ও ভাল হয়ে থাকবি। ভালো ভালো রেজাল্ট করবি কেমন।
__ হুম। আসি।
সূর্যের রং লাল হয়ে গঙ্গাবক্ষে অস্ত যাচ্ছে। সন্ধ্যে নেমে এসেছে। মনের কথা আর বলা হয়ে উঠল না তনুজার।
পরদিন বিকেলে চলে গেল উজান।
ধীরে ধীরে সব কেমন যেন হয় গেল। তনুজা সেই ছটফটে মেয়েটাও কেমন চুপচাপ হয়ে গেল। কলেজ টিউশন এসবেই দিন কাটতে লাগল।
কেটে গেল সাড়ে ছয় বছর।
__ বল তারপর কেমন আছিস?
__ ভালোই।
__ চাকরী করছিস তো?
__ হ্যাঁ।
__ তোর সেই পছন্দের ফিজিক্সের প্রফেসরই হলি?
__ নাগো। সব পছন্দের জিনিস চাইলেই পাওয়া যায় না, তেমনি ফিজিক্সের প্রফেসর হওয়া হয়নি। গ্রাজুয়েশন যদিও ফিজিক্স এই। তারপর সরকারী একটা চাকরী জুটে গেল। বছর খানেক হলো কলকাতায় বদলি হয়ে এসেছি।
__ ও এত ভীষণ ভালো খবর।
__ হ্যাঁ তা বলতে পারো। দু’বছর আগে বাবা চলে যায় তার মাস ছয়েকের মধ্যে মা।
__ মা বলেছিল।
__ তখন আমার ভীষণ কাজের চাপ। ১৪ দিনের ছুটি ম্যানেজ করে এসেছিলাম। গতবছর ভেবেছিলাম বাড়িটা বিক্রি করে দেব। আমি বাইরে পড়ে থাকি, বাড়ি রেখে লাভ নেই, দেখাশোনা করার লোক নেই। তবে তার কয়েকদিন পর কলকাতায় বদলি হয়ে যায়। তাই বাড়িটা বিক্রি করলাম না। এখন এখানেই আছি।
__ কাকু কাকীমার খবর টা……….
__ বিয়ে থা করলে?
__ ধুর আর বিয়ে!! ওই ল্যাপটপের সাথে আমার বলতে পারিস লিভিং ইন চলছে। রাত দিন ওর সাথে কাটে।
হেসে ফেললো দুজনই।
__ কবে ফিরবে?
__ ঠিক নেই রে। মনে হয় পরের বছর নববর্ষ কাটিয়ে ফিরব। কলকাতার ব্রাঞ্চে কিছু কাজের জন্যই এসেছি। তা মিটতে মাস ছয়েক তো লাগবেই।
__ ও আচ্ছা।
__ তুই বিয়ে করিস নি?
__ অষ্টমীর দিন একা একা অঞ্জলী দিতে আসা একটা মেয়ে, যার হাতে শাঁখা পলা নেই, মাথায় সিঁদুর। নেই খুব স্বাভাবিক না যে আমি অবিবাহিত। এইটুকু বোঝার বুদ্ধি নিশ্চয়ই তোমার আছে উজান দা।
__ উফফ এই বকর বকর করা স্বভাব গেল না তোর।
__ কিছু কিছু স্বভাব থেকে যায় উজান দা। খুব কাছের কাউকে পেলে সেগুলো নতুন করে ডানা মেলে।
__ তনু…..
__ কি বলো?
__ খুব একা হয়ে গেছিস তাই না?
__ সে তো উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট এর পর থেকেই।
কথা বলতে বলতে ওরা কখন যে তনুজার বাড়িতে পৌঁছে গেল খেয়াল নেই।
__ ভিতরে এসো উজান দা।
__ হ্যাঁ চল। সেই একই রকম আছে রে বাড়িটা।
__ এখানে বসি?
__ হ্যাঁ হ্যাঁ। বল কি বলছিলি?
__ না কিছু না। চা খাবে?
__ তুই চা বানাতে পারিস? সেই চা কী খাওয়ার যোগ্য?
__ খেয়েই দেখো ।
__ বিজয়া করতে এসে খাবো। একদম।
__ আচ্ছা।
__ তনু…..
__ বল
__ তুই অনেক বড় হয়ে গেছিস। কত পাল্টে গেছিস রে।
__ সময় আমাকে পাল্টাতে বাধ্য করেছে। এক এক করে সমস্ত প্রিয় মানুষেরা ছেড়ে চলে গেছে। কাউকেই আটকাতে পারিনি।
__ এত ঠান্ডা। এত চুপচাপ কবে হয়ে গেলি?
__ এসব বাদ দাও। ঘড়িটা এখনো পড়ো?
__ এটাই আমার জীবনের একমাত্র ঘড়ি। আমি কোনদিন ঘড়ি পড়তাম না। এটা তুই দিয়েছিলি, তাই এটা দিয়ে ঘড়ি পরা শুরু। এখনো এটাই পড়ি।
__ ওহ্
__ তবে আজ উঠি।
__ ……….
উজান উঠে দরজা অব্দি যেতে তনুজা হঠাৎ বলে উঠলো,
__ উজান দা…….
উজান আন্দাজ করেছিল তনুজা ওকে ডাকবেই। ঘুরে দাঁড়ালো উজান।
__ বল।
এবার যেটা হলো তার জন্য উজান মোটেই তৈরি ছিল না। এরকম হতে পারে কল্পনার বাইরে ছিল উজানের।
তনুজা দৌড়ে এসে উজান কে জড়িয়ে ধরল। বেশ কিছুক্ষণ পর যখন তনুজা উঠল, উজানের পাঞ্জাবি ততক্ষণে কান্নায় ভিজে গেছে।
__ কি হলো তনু কাঁদছিস কেন?
__ কাঁদবো না কেন ছেড়ে চলে গিয়েছিলে? কেন?
__ মানে ?
__ রোজ রোজ পড়াতে এসে যা বলতে সব শুনতাম। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে আমার মনের কথা?
__ কি সব বলছিস?
__ ঠিকই বলছি সেদিন গঙ্গার পাড়ে গেছিলাম এটাই তোমাকে বলতে যে উজানদা আমি তোমাকে ভালোবাসি।
__ তনু…..
__ চুপ করো। তুমি চলে গেলে আমাকে একা করে। তারপর বাপি…… মা…… সবাই তোমরা স্বার্থপর। সবাই। আমি একা হয়ে গেলাম। সম্পূর্ণ একা। কি আনন্দ পেলে আমাকে একা করে দিয়ে? কি আনন্দ পেলে? বলো? উত্তর দাও! কি হলো উত্তর দাও!
__ তনু…. বাবু শোন। এরকম ভাবে কাদেনা এরপর শরীর খারাপ করবে তো।
__ করুক। তাতে কার কি? আমি তো একা। তোমরা সবাই খুব স্বার্থপর। কেউ আমার পাশে থাকলে না। কেউ না। তুমি চাকরী নিয়ে চলে গেলে। বাপি চলে গেলো। যাও বা ভাবলাম মা কে নিয়ে থাকবো, মা ও চলে গেলো। কেউ রইল না। কেউ না।
__ I am sorry তনু। সেদিন তোর কথাগুলো আমার শোনা উচিৎ ছিল। আমি তো এসবের কিছুই জানতাম না।
__ জানতে না না। জানতে চাও নি কোনোদিন।
__ I am really sorry
__ কি শুনতে চাও? It’s okay? শুনে নাও। IT’S OKAY. যাও চলে যাও। আর আসবেনা কোনোদিন তুমি আমার সামনে। চলে যাও।
এটুকু বলেই তনুজা মুখ ঘুরিয়ে দৌড়ে দোতলায় চলে গেল। উজান ও তনুজা দের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়ি চলে গেল।
দেখতে দেখতে অষ্টমী বেরিয়ে এলো নবমী। নবমীর পেরিয়ে দশমী। এরমধ্যে একদিনও তনুজা বা উজান কেউ নিজের বাড়ি থেকে বেরোওনি। তনুজার শরীরটা খুব একটা ভালো নেই। বাড়ি বসে ভাবছে হঠাৎ তার কি হল যে এভাবে রিএক্ট করে ফেলল। ফোন নম্বরও নেওয়া হয়নি যে ফোন করে একটা সরি বলবে। প্যান্ডেলে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। শরীরের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।
আর ওদিকে উজান ভাবছে মেয়েটার উপর দিয়ে একটার পর একটা ঝড় বয়ে গেছে। মেয়েটা কত শক্ত থেকে এসব সামলেছে। অষ্টমীর দিন হয়তো উজান কে দেখে সত্যিই সামলাতে পারেনি। ও তো আগে বলতে পারতো যে ও উজান কে ভালোবাসে। কিছু জানার বা শোনার আগেই চলে গেছিল।
দশমীর বিকেল মাইকে বারবার শোনা যাচ্ছে, “আপনারা নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখুন। এক এক করে বরণ করুন। কেউ কাউকে সিঁদুর লাগাবেন না।”
তনুজার শরীরটা আজ একটু ভালো। তাই ও ভাবল একটু প্যান্ডেল থেকে ঘুরে আসবে। মাকে একবার প্রণাম সেরে আসবে।
একটা সাদা পাঞ্জাবী পরে মায়ের সাথে প্যান্ডেলে এসেছে উজান। চোখ দুটো খুঁজছে সেই চেনা মুখ টা।
হঠাৎ চোখ পরল লালপাড় শাড়ি, গয়না, চুলটা খোলা, চোখে কাজল। তনুজা। মুখে অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট। তবুও স্নিগ্ধ লাগছে।
তনুজাও উজান কে দেখলো কিন্তু কী করবে সেটা বুঝে উঠতে পারল না।
এদিকে উজানের মায়ের বরণ শেষ। হঠাৎ উজান মায়ের হাত থেকে বরণের থালাটা নিয়ে তনুজার সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর খানিকটা সিঁদুর তুলে তনুজার দু গালে লাগিয়ে বলল, “পরেরবার থেকে আমার মায়ের সাথে তুইও মা দুর্গাকে বরণ করতে আসবি?”
তনুজা পলকহীন ভাবে তাকিয়ে রইল উজানের দিকে চোখ ছল ছল করছে।
প্যান্ডেলের বাইরে ঢাক বাজছে। উমার এবার যাওয়ার পালা।
আসছে বছর আবার যখন আসবে তখন হয়ত তনুজা আর উজান একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে।
তার মাঝে অপেক্ষা……. মাত্র একটা বছর।
এবার মাগো বিদায় তবে, আসছে বছর………………
