তুমি কোন গগনের তারা – সুদক্ষিণা গুপ্ত
শুরুর কথা
“লাগুক দোলা লাগুক দোলা,আমার প্রাণে তোমার মনে..”.. ‘শেষ উত্তর’ সিনেমাতে সুন্দরী নায়িকা কানন দেবী গাইছেন এই গান , আর বঙ্গদেশের হাজার হাজার যুবকের মনে তা দোলা দিয়ে যাচ্ছে।
সে এক উত্তাল আন্দোলনের সময় বঙ্গদেশে। ১৯৩০ এর দশক ও চল্লিশের দশকের প্রথম দিক ।বাংলা তৈরি হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম নিয়ে, আর কিছুদিন পরে “ভারত ছাড়ো আন্দোলন”, “তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ” ইত্যাদি। নেতাজি তাঁর মহানিষ্ক্রমণের পথ তৈরি করছেন ।চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ এরই মধ্যে অস্তমিত হলেন। তার মধ্যে রমরমিয়ে চলছে বাংলা সিনেমা। বাংলা সাদাকালো সিনেমায় একচ্ছত্র রাজত্ব করছেন সুন্দরী গায়িকা নায়িকা কানন দেবী। যখন সিনেমার পর্দায় পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ট্রেন দেখে নায়িকা গাইছেন “তুফান মেল যায় ..”কত যুবকের মনের মধ্যে দিয়ে চলে যায় ঝমঝমিয়ে সেই ট্রেন। ইনি কিন্তু শুধু নায়িকা নন, লাহোর থেকে রেঙ্গুন পর্যন্ত ভারতের সেরা গায়িকাদের মধ্যে একজনও বটে। ১৯৭০, ৮০র দশকে প্রায় প্রৌঢ় পুরুষরা যখন তাদের যুবক বয়সের হিট গান “আমি বনফুল গো” র ছন্দে ছন্দে আনন্দে দুলতে থাকেন, তখন তা যতই হাস্যরসের উদ্রেক করুক না কেন, মনে করিয়ে দেয় কানন দেবীর একসময়ের অসাধারণ জনপ্রিয়তার কথা।
কোন কাননের ফুল…
কানন বালা মাত্র ১০ বছর বয়সে সিনেমা জগতে আসেন 1926 সালে । সেটি আজ থেকে একশো বছর আগের কথা। তখনও বাংলা ছবি সবাক হয়নি। তখনও তাই কোনোরকম গানেরই জন্ম হয়নি বাংলা চলচ্চিত্রে। উনিশশো ত্রিশের দশকে বাংলা ছবি সবাক হবার পর কাননবালাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। কারণ শুধু পর্দায় উপস্থিতি নয়, অভিনয় দক্ষতা, নৃত্যপটুতা ও অসাধারণ গানের গলা নিয়ে তিনি ছিলেন ১৯৩০ ও ৪০ এর দশকের বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী। বলা যায় বাংলা অভিনয় জগতে তিনি নটী বিনোদিনীর উত্তরসূরী ও সুচিত্রা সেনের পূর্বসূরী। তিনি এক বিরল প্রতিভা। একটা সময় বাংলা সিনে জগতের গ্ল্যামারের শেষ কথা। কানন দেবী সিনেমায় প্রবেশ করার পর শ্রদ্ধেয় পঙ্কজ মল্লিক, ওস্তাদ আলারাক্কা.. এঁদের কাছে সংগীত শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর নিজের কথায় ১৯৩৬ থেকে ১৯৪০ ছিল তাঁর অভিনয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
কাননে কুসুমকলি …
কানন বালার জন্ম হয় ১৯১৬ সালের ২২ শে এপ্রিল হাওড়ার এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে, তবে তাঁর জন্ম সাল ও জন্ম তারিখ সঠিক জানা যায় না এমনকি পিতা-মাতার সঠিক পরিচয়ও না। তবে আত্মজীবনী “সবারে আমি নমি” তে তিনি পিতা রতনচন্দ্র দাস ও মাতা রাজবালা দেবীর নাম করেন। তিনি বলেন ‘কে মা কে বাবা সেসব ভেবে বুকের ব্যথা বাড়িয়ে লাভ কি ..’।
বলা হয় ভাগলপুরের রাজবাড়িতে তাকে গান শোনানোর জন্য নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে রতনচন্দ্র কাননকে সোজা কলকাতায় নিয়ে আসেন। তিনি কাননকে বই এনে পড়ে শুনাতেন, গান শেখানোর যোগাযোগ করতেন। একজন সংবেদনশীল মহিলা যাঁকে কানন বৌদি বলতেন তিনি কাননদের নানান ভাবে সাহায্য করতেন।
তাঁর নেহাতই শিশু বয়সে তাঁর পিতা রতনচন্দ্র দাসের অকাল প্রয়াণ ঘটে অত্যন্ত উৎশৃংখল জীবন যাপনের শেষে এবং মা রাজবালা দেবীর উপর বিপুল ঋণের বোঝা চাপিয়ে। এরপর রাজবালা মেয়েকে নিয়ে কোনো আত্মীয়ের বাড়ি বা অন্য কোনো বাড়িতে আশ্রিতা হয়ে অথবা পরিচারিকার কাজ করে এবং আরো নানারকম অসম্মানের কাজ করে তাঁর ও মেয়ের দিন গুজরান করেন ।
১৯২৬ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে যে নতুন তারার জন্ম হয়, তাঁর নাম কানন বালা। ‘তুমি কোন কাননের ফুল তুমি, কোন গগনের তারা…”ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম তারকা হলেন এই মিস কানন বালা। পরে অবশ্য কানন দেবী নাম নিয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তারকা ইমেজ তাঁকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করে , তাঁর আলোকচিত্র কলকাতার রাস্তায় বিক্রি হতো, তাঁর ফ্যাশন ফলো করে মহিলারা শাড়ি ব্লাউজ পরতেন, চুলের স্টাইল বদলাতেন। ১৯২০,৩০, ৪০ এমনকি ৫০ এর দশকেও বাংলা বা ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গে যেসব মহিলারা জড়িত থাকতেন তাদের কারোরই স্টুডিও বা সমাজে কোন সম্মান ছিল না ।আজকের দিনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করা যায় না কি অসাধারণ সাহসিকতা বলে কানন বালা চলচ্চিত্র জগতে পা ফেলেছিলেন। তবে তিনি জানান তিনি তাঁর মা ও দিদির ইচ্ছার বিরুদ্ধে দারিদ্র্যের অসম্মান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই জগতে আসেন।
সকলি ফুটিল…
১৯২৬ এর পর আবার ১৯৩১ সালে তার অভিনয় যাত্রার শুরু। এই যাত্রা থামে ১৯৫৯ সালে অর্থাৎ প্রায় ৩৪/৩৫ বছর পরে। এরই মাঝখানে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ বিভাগ হয়েছে অর্থাৎ সামাজিক পরিস্থিতি মোটামুটি বদলে গেছে, তার সঙ্গে তাল রেখে বদলেছে বাংলা চলচ্চিত্র ধারাও। এসেছে নতুন প্রযুক্তি। কানন দেবী অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজনার কাজেও এসেছেন। বলা হয় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রথম মহিলা প্রযোজক ছিলেন কানন দেবী।
১৯২৬ শে মে ম্যাডান থিয়েটারের ব্যানারে ‘জয়দেব’ সিনেমায় তাঁর প্রথম অভিনয় রাধার ভূমিকায় খুব সহানুভূতিশীল পরিচালক জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে। হাওড়ার ভোলাডাঙ্গায় পাড়ার একজন শুভার্থী ভোলাদা তাকে প্রথাগতভাবে না হলেও গান শেখাতেন। তার মধ্যে ছিল কীর্তন, ভাটিয়ালি, কর্তা ভজা, মীরা ও সুরদাসের ভজন, সংস্কৃত মন্ত্র, ব্রহ্মসঙ্গীত, অতুলপ্রসাদের গান এমনকি রবীন্দ্র সংগীতও। এক প্রতিবেশী কাকা ছিলেন তুলসী বন্দোপাধ্যায়, যিনি তাঁকে সিনেমা জগতে নিয়ে আসেন। ৫ টাকা রোজগার হয়েছিল ছোট্ট কাননের । বাকি কুড়ি টাকা চলে যায় দালালের হাতে। এরপর নির্বাক ‘শংকরাচার্য’ সিনেমায় তাঁর অভিনয়। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে ‘চার দরবেশ’ সিনেমায় তাঁর সফল অভিনয়।এ যে সময়ের কথা সে সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি সিনেমা প্রযোজনা করত, তাতে শিল্পীরা বাঁধা চাকরি করতেন। নানারকম অপ্রীতিকর ও অবমাননাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কিশোরী কাননকে পথ চলতে হয়েছে। নিজে বাড়িতে অনেক বই পড়ার চেষ্টা করতেন, প্রথাগত স্কুল-কলেজে গিয়ে পড়াশোনা শেখার মত পারিবারিক আর্থিক বা অন্য কোনো রকম পরিস্থিতি ছিল না। পরে প্রতিষ্ঠিত হবার পরে তিনি বাড়ীতে মাস্টার মশাই ও দিদিমণি রেখে তাঁদের কাছে নানান রকম বইয়ের পাঠ শুনতেন। বালিকা কানন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মনে নাচও অভ্যাস করতেন। এভাবেই নিজেকে সময়োপযোগী শিক্ষিত করে তোলেন, ইংরাজি বলতেও শেখেন।
বাংলা সিনেমা সবাক হবার পর রাধা ফিল্ম স্টুডিওর অধীনে শ্রী গৌরাঙ্গ সিনেমায় তাঁর বিষ্ণুপ্রিয়ার রোল আজকের ভাষায় হয় সুপার-ডুপার হিট। তাতে গান গেয়ে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মাতিয়ে দেন ।যদিও প্রথমটা খুব ভয় পেয়েছিলেন ভয়েস টেস্টিংয়ে তাঁর কন্ঠ পাশ করবে কিনা এই ভেবে। তাঁর প্রথম সবাক ছবি অবশ্য ম্যাডান থিয়েটারের অধীনে ‘জোর বরাত’ যেখানেও তিনি নায়িকা হন। ১৯৩১ সালে ঋষির প্রেম, প্রহ্লাদ, ১৯৩২ সালে মায়া ইত্যাদি সফল হয়।
এই সময়ে সবাক বাংলা ছবি এবং অনেক হিন্দি ছবি কেবলমাত্র কানন দেবীর গানের ওপর ভরসা করেই চলত। গান গাইতে পেরে তিনিও অত্যন্ত খুশি হন। পঙ্কজ মল্লিক, রাইচাঁদ বড়াল, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়..এঁদের মত উচ্চ স্তরের সংগীত পরিচালকরা কেবলমাত্র কাননের কথা ভেবেই গান বাঁধতেন, তাঁকে গান শেখাতেন, এমন দিনও গেছে। সিনেমা জগতের তৎকালীন দিকপাল পরিচালক যেমন দেবকী বসু, প্রমথেশ বড়ুয়া ইত্যাদিদের পরিচালনায় কাননের অনেক সিনেমাই হিট করে। দেবকী বসুই তাঁকে প্রথম সবাক ছবিতে গান করার দায়িত্ব দেন। ১৯৩০ এর দশকে বাংলা সিনেমা জগতের প্রথম তারকা কানন দেবী একটি ব্র্যান্ড হয়ে যান। বিজ্ঞাপনেও তাঁর মুখ দেখা যেত। একের পর এক ফ্যান মেল এবং প্রচুর টেলিফোনও পেতেন তিনি। যেহেতু ১৯৪০ এর দশকে প্রথম প্লেব্যাক গানের চল হয় সেহেতু ১৯৩০ এর দশকে নায়ক নায়িকাদের নিজেদের গলায় গান গাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। নায়ক প্রমথেশ বড়ুয়া, কে এল সায়গল এঁরা সকলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। একটি প্রজন্মের অনেকেই তাঁদের গানের কথাই বেশি জানে। প্রমথেশ কানন জুটির রসায়ন ছিল দারুণ।
রাধা ফিল্মস স্টুডিও র ব্যানারে কানন দেবী অভিনীত ‘মানময়ী গার্লস স্কুল’ ১৯৩৫ সালে অত্যন্ত সাড়া জাগায়। তার ১০০টি শো রমরমিয়ে চলে কলকাতার নানা সিনেমা হলে। কানন দেবীকে এটি বিশেষ সাফল্য এনে দেয়। তিনি নিজেও অত্যন্ত খুশি এবং আনন্দিত হন এই সিনেমার সাফল্যে। প্রফুল্ল ঘোষ পরিচালিত ‘মা’ সিনেমাতে তাঁর আধুনিক মহিলার চরিত্রে অভিনয়ও খুব সফল হয়। কিন্তু এর পরেই ‘বাসবদত্তা’ সিনেমার রোল তাঁর ভালো লাগেনি এবং তাতে তাঁর বেশ নিন্দাও হয়। এরপরই মানময়ী গার্লস স্কুল খুবই সফল সিনেমা। এছাড়া কৃষ্ণ বসুদাস, কন্ঠহার ইত্যাদি এগুলো বিপরীত চরিত্র এবং এসব সিনেমাও হিট হয়। কৃষ্ণ বসুদাস সিনেমায় রুক্মিণীর চরিত্র, বিষবৃক্ষের কুন্দনন্দিনী, মায়ের হিন্দি ও কন্ঠহারের হিন্দি ভার্সন, খুনি কৌন ইত্যাদি অত্যন্ত সাফল্য লাভ করে। ১৯৪১ ও ১৯৪২,পরপর দু’বছর তিনি ভারতের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার BFJA থেকে লাভ করেন।
রাধা ফিল্মস এর পর তিনি যোগদান করেন নিউ থিয়েটার্স। তার তখন খুবই রমরমা ।একের পর এক বাংলা ও হিন্দি ছবি উপহার দিয়ে চলেছেন তারা। হ্যাঁ তখন কলকাতায় হিন্দি ছবিও তৈরি হতো এবং তা সর্বভারতীয় সাফল্য অর্জন করত। এর অধীনে বিদ্যাপতি সিনেমায় অনুরাধার চরিত্রে কাননের অভিনয় এবং গান আজও বাংলা ফিল্মের ওপর গবেষণার কাজে লাগে। এ চরিত্রটি তাঁর নিজেরও খুব প্রিয়। গবেষকরা অবাক হন সেকালে এসব সিনেমার জনপ্রিয়তার কথা ভেবে। আজকের তুলনায় সেসব সিনেমায় ছিল ন্যুনতম প্রযুক্তি। রং ছিল সাদা কালো। শুধু পরিচালক, সংগীত পরিচালক, নায়ক নায়িকাদের গুণে সেসব সিনেমা হিট হয়ে যেত। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে সে সময় টিভি বা অন্য কোন রকম এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থা ছিল না।
যাই হোক কানন দেবীর জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। তিনি শুধু সুন্দরী বা নৃত্য গীত পটিয়সী ছিলেন না , ছিলেন ব্যক্তিত্বময়ীও। তা সেটে এবং পর্দায় প্রতিফলিত হত বারবার। তাঁর নায়কদের মধ্যে ছিলেন পাহাড়ি সান্যাল, জহর গাঙ্গুলী, প্রমথেশ বড়ুয়া,কে এল সায়গল, ধীরাজ ভট্টাচার্য ইত্যাদিরা। এঁরা সকলেই ছিলেন গায়ক নায়ক। অশোক কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে তাঁর ‘চন্দ্রশেখর’ সিনেমা চিরকালীন হিট সিনেমার পর্যায়ে পড়ে। ‘মুক্তি’ সিনেমা 1937 সালে অসম্ভব হিট হয় এবং সেই সিনেমায় তাঁকে রবীন্দ্র সংগীত গাইতেও শোনা যায়। ‘বনফুল’ সিনেমাও বাংলা সিনেমায় একটি মাইলস্টোন।এছাড়া ‘জওয়ানি কি রাত’, ‘খুনি কৌন’, ইত্যাদি হিন্দি সিনেমাও তাঁকে সর্বভারতীয় খ্যাতি এনে দেয়।
কানন দেবীর গাওয়া যেসব গান যাকে বলে হিট হয়েছিল তার অনেকগুলো কান পাতলে আজও শোনা যায়। অসাধারণ মিষ্টি সুরেলা কিন্তু সামান্য আনুনাসিক কন্ঠে গাওয়া সেই গান গুলির মধ্যে কয়েকটি হল অবশ্যই আমি বনফুল গো (শেষ উত্তর ১৯৪২), আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই (সাপুড়ে 1939), ঘর যে আমায় ডাক দিয়েছে (সাথী ১৯৩৮) যদি আপনার মনের মাধুরী মিশায়ে (শেষ উত্তর ১৯৪২), যদি ভালো না লাগে তবে দিও না মন (যোগাযোগ ১৯৪৩),কেন অকারণে ভাবি তারে (মানময়ী গার্লস স্কুল) কোন প্রভাতের মনের রঙে (পরাজয় ১৯৪৩ ), লাগুক দোলা (শেষ উত্তর ১৯৪২ ), থেকে থেকে কার যেন গো ছায়া পড়ে, গীতিকার প্রেমেন্দ্র মিত্র (বিদেশিনী 1944) তুফান মেল (শেষ উত্তর ১৯৪২) ইত্যাদি। এছাড়া মানময়ী গার্লস স্কুল খুবই সাড়া ফেলার পর তাঁর কাছে আলাদা করে নানান গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে গান রেকর্ডিং এর অফার আসে। তার মধ্যে বিখ্যাত হয় ভুলে যদি ওগো প্রিয় ভুলে থাকি তোমাকে, শুধু দূর গগনে ইত্যাদি আধুনিক গান। এইসব গানের সুর বৈচিত্র্য জানলে বোঝা যায়, কানন দেবীর কন্ঠের যাদু ও ক্ষমতা, কত রকমের সুরে যে তিনি গান গেয়েছেন- টপ্পাঙ্গ, ধ্রুপদী ঘেঁষা,চটুল আধুনিক, ফোক বেসড এমন কি রবীন্দ্র সংগীত পর্যন্ত। এসব গানের গীতিকার সুরকারদের মধ্যে ছিলেন ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, স্বয়ং নজরুল ইসলাম, কমল দাশগুপ্ত, রাইচাঁদ বড়াল, পঙ্কজ মল্লিক, অজয় ভট্টাচার্য, প্রেমেন্দ্র মিত্র, প্রণব রায় কে নন।
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল
কানন দেবীর গাওয়া কিছু কালজয়ী রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্যে আছে আমার হৃদয় তোমার আপন হাতের দোলে (পরিচয় ১৯৪১) আলোকের এই ঝর্ণাধারায়, এই লভিনু সঙ্গ তব , তৃষ্ণার শান্তি সুন্দর কান্তি, আমাদের যাত্রা হলো শুরু, একদিন চিনে নেবে তারে, আজ সবার রঙে রঙ মিশাতে হবে, সেই ভালো সেই ভালো, তার বিদায় বেলার মালাখানি, তোমার সুরের ধারায় ইত্যাদি। কানন দেবীর কণ্ঠে তাঁর রচিত গান শুনে কবিগুরু কাননকে স্বয়ং আশীর্বাদ করেন, এবং গান গাওয়ার অনুমতি দেন এমনকি তাঁকে শান্তিনিকেতনে গিয়ে গান শুনাতেও বলেন।
১৯৩৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত বিখ্যাত ‘মুক্তি’ ছবিটিতে রবীন্দ্রনাথের অনুমতি নিয়ে কানন দেবীর কন্ঠে দুটি রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহৃত হয় ।এই ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন স্বয়ং পঙ্কজ মল্লিক।গান দুটি হলো আজ সবার রঙে রং মেশাতে হবে এবং তার বিদায় বেলার মালাখানি। সিনেমাটির সঙ্গে সঙ্গে গান দুটিও বিপুল জনপ্রিয় হয়। রবীন্দ্র কাহিনী ছাড়া অন্য কোনো কাহিনীতে ব্যবহৃত রবীন্দ্র সংগীতের যথার্থ ব্যবহার এই প্রথম। পরে এই ধারা অব্যাহত থাকে সত্যজিৎ-ঋত্বিক- মৃণাল-তপন সিনহা- তরুণ মজুমদার ও অন্যান্য কালজয়ী পরিচালকদের মধ্যেও। কিন্তু মুক্তি যে সময়ের সিনেমা সেই ১৯৩০ এর দশকে রবীন্দ্র সংগীত আজকের মত সাধারণ বাঙালির ঘরে ঘরে এত জনপ্রিয় ছিল না। সীমিত ছিল কিছু বুদ্ধিজীবীর মধ্যে। সেখান থেকে মুক্তির কাজটা মুক্তি সিনেমা কিছুটা হলেও করে দেয়। পঙ্কজ মল্লিক ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায় ও অনাদি দস্তিদার এর কাছে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিম নেন। সেই ভালো সেই ভালো গানটিও তিনি সুন্দর গেয়েছিলেন।
চলচ্চিত্রের গানের প্রয়োজনে কানন নিজে নজরুলের কাছেও গানের তালিম নিতেন। তিনি জানান যে তিনি রাগ রাগিনী বুঝতেন না কিন্তু নজরুল কিভাবে গানের কথার সঙ্গে মিলানোর জন্য হারমোনিয়াম তোলপাড় করে সুর খুঁজে আনতেন, সে তাঁকে অবাক করতো । নজরুলের সদানন্দময় ব্যক্তিত্বও তাঁকে আকৃষ্ট করে।
তবে সিনেমার গানের প্রয়োজনের বাইরে কানন দেবীর কিন্তু নিয়মিত গান শেখা বা রেওয়াজ করার অভ্যাস ছিল না, এই গান ছিল তাঁর প্রকৃতি দত্ত প্রতিভা। অনায়াস দক্ষতায় বালিকা বয়স থেকেই কানন মাত্র একবার শুনেই যে কোন কঠিন গান তুলে নিতে পারতেন। দেবকী বসু প্রথমেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাননকে দিয়ে বিদ্যাপতি সিনেমায় গান ও অভিনয় করান, যাতে অনেকেরই আপত্তি ছিল।
কাননের সংসার
কানন দেবীর প্রথম স্বামী ছিলেন অক্সফোর্ড শিক্ষিত শান্তিনিকেতনের ইংরেজি শিক্ষক অশোক মৈত্র। ১৯৩৯ সালে তাঁদের বিয়ে হয় কিন্তু ১৯৪৫ এই সেই বিবাহিত জীবন সমাপ্ত হয়। অশোক মৈত্র ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের খুবই বড় নেতা হেরম্বচন্দ্র মৈত্রর ছেলে এবং হেরম্ব মৈত্র অশোক কাননের সম্পর্ক মেনে নেননি, যদিও অশোকের মা কুসুমকুমারী, বোন রানী এবং ভগ্নিপতি প্রখ্যাত প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ… এঁরা সকলেই কানন দেবীকে খুব পছন্দ করতেন। তাঁদের সম্পর্ক খুব গাঢ় হলেও হেরম্বচন্দ্রের মৃত্যু অবধি এই বিয়ে সংঘটিত হতে পারেনি। তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয় খুব রোমান্টিক অবস্থায়। অশোক মৈত্র কে কানন দেবী খুবই ভালবাসতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন । তাঁর কাছে পাশ্চাত্য সংগীত শিখেছেন , পাশ্চাত্য সভ্যতা সম্বন্ধে জেনেছেন। কিন্তু অশোকবাবু চেয়েছিলেন কানন দেবী বিয়ের পরে অভিনয় ছেড়ে দেন, তাতে কানন রাজি হননি, ফলে বিয়ে পাঁচ বছরের বেশি টেকেনি। আর এই বিয়ের সময়ে সমাজের চরম অপমান ও বিদ্রূপ তাঁকে সহ্য করতে হয়, বিশেষ করে সাধারণ এবং উচ্চবিত্ত বাঙালি সমাজের কাছ থেকে।
১৯৪৯ সালে রাজ্যপালের এডিসি হরিদাস ভট্টাচার্যের সঙ্গে কানন দেবীর দ্বিতীয় বিবাহ ঘটে। তাঁরা চল্লিশ বছর একসঙ্গে ছিলেন কিন্তু তারপর হরিদাস বাবু হঠাৎই কানন দেবীকে ছেড়ে চলে যান। কানন দেবীর প্রযোজনা সংস্থা শ্রীমতি পিকচার্স এবং পরিচালক হরিদাস ভট্টাচার্য একসঙ্গে প্রচুর হিট সিনেমা বাংলা ভাষাকে উপহার দেন ।তার মধ্যে প্রথম হিট সিনেমা ছিল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মেজদিদি’। এই সিনেমায় কানন দেবী নিজে গায়িকা ও নায়িকা ছিলেন। এছাড়া নববিধান, দেবত্র, আঁধারে আলো, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্ত ও অন্নদা দিদি, অভয়া ও শ্রীকান্ত ইত্যাদি বহু সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্রে মাইলস্টোন হয়ে আছে। উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন এবং তখনকার দিনের আরো বড় বড় শিল্পীরা কেউই শ্রীমতি পিকচার্সের সিনেমা থেকে বাদ পড়েন নি। বহু সিনেমায় কানন দেবী নিজেও অভিনয় করেছেন।
তরুণ মজুমদারের কথায়
তরুণ মজুমদারের ‘সিনেমা পাড়া দিয়ে’ প্রথম খন্ডে কানন দেবীর ঘরোয়া এবং একইসঙ্গে পেশাদার রূপটির কিছু অংশ ফুটে উঠেছে খুব মনোমুগ্ধকর বর্ণনার মধ্যে দিয়ে। তরুণ বলছেন যে অত উচ্চ স্তরের একজন অভিনেত্রী যার কণ্ঠস্বরে অবিভক্ত ভারতের রেঙ্গুন থেকে লাহোর পর্যন্ত মানুষ পাগল ছিল, যার অতীত নিয়ে নানা কুকথা শোনা যায় এবং যার জন্ম রহস্যময় তাঁর আভিজাত্য, গ্ল্যামার ও মাতৃমূর্তি কাছের মানুষদের কাছে এক অত্যন্ত বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল। ১৯৪৯ এ শ্রীমতি পিকচার্স শুরু হওয়ার পর ১৯৫০ এর দশকের ঘটনা এগুলি। তরুণবাবু কে কানন দেবী যেচে সিনেমা ডিরেকশনের অ্যাপ্রেন্টিস হিসাবে নিয়োগ করেন। বেতনহীন কাজ, কিন্তু কানন দেবীর বাড়িতে শ্রীমতি পিকচার্সের অফিসে প্রতিদিন যাওয়া এবং তাঁর হাতের জলখাবার, দুপুরের ও রাতের খাবার খাওয়ার সৌভাগ্য হতো প্রায়ই । পরের দিকে কানন দেবী বেতন নিতে অনুরোধ করলেও তরুণবাবু তা অস্বীকার করেন, কারণ তাঁদের মধ্যে একটি ঘরোয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ততদিনে। কানন দেবীর স্বামী শ্রী হরিদাস ভট্টাচার্য যিনি একসময় রাজ্যপালের এডিসি ছিলেন এবং স্মার্ট, আধুনিক ও ইংরেজিনবীশ ছিলেন, শ্রীমতি পিকচার্সের প্রথম দিকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হলেও কিছুদিন পর থেকেই পরিচালক রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সময় অনেক সিনেমায় কানন দেবীর নাম কানন ভট্টাচার্য হিসেবেও দেখা যায় ।১৯৪৯ এ প্রথম এই প্রোডাকশন হাউস শরৎচন্দ্রের মেজদিদি সিনেমাটি তৈরি করে। তবে হরিদাসবাবু নিজে খুব ভালো বাংলা বলতে বা লিখতেও পারতেন না এবং বাংলা সাহিত্য সম্বন্ধে তাঁর বিশেষ জ্ঞানও ছিল না। এই নিয়ে বেশ কিছু হাস্যরসাত্মক ঘটনাও ঘটতো। এছাড়া প্রযোজক হিসেবে কানন দেবীর বেশ কিছু ঘটনায় তাঁর দৃঢ়চিত্তের পরিচয় ও পাওয়া যায়।
পুরস্কার, সম্মান ও স্বীকৃতি
সারা জীবন কানন দেবী প্রচুর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ।রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি তাঁকে ডিলিট উপাধি দেয়। ১৯৪১ সালে নীতিন বসু পরিচালিত ‘পরিচয়’ ও তার হিন্দি সংস্করণ লগনের নায়িকা চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য BFJA কর্তৃক শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান পান । পরের বছর ‘শেষ উত্তর’ সিনেমাও তাঁকে একই সম্মান এনে দেয়।১৯৬৮ সালে চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী এবং অবশেষে ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও তিনি পান। ১৯৯০ সালে cine central কর্তৃক হীরালাল সেন পুরস্কার, ১৯৯১ সালে ইন্দিরা গান্ধী স্মৃতি পুরস্কার ইত্যাদি ও তাঁর ঝুলিতে আসে। ২০১১ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়।
১৯৫৯ সালে ‘ইন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত ও অন্নদা দিদি’ তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা। অবশ্যই শেষের দিকে তিনি নায়িকা চরিত্র ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র চিত্রায়নে মন দিয়েছিলেন।
সমাজসেবা
সিনেমা থেকে অবসর নেবার পর বা তার কিছু আগে থেকেই তিনি নানান রকম সমাজসেবা মূলক কাজে ব্রতী হন। তার মধ্যে একটি ছিল নিজের উদ্যোগে এবং অন্যান্য মহিলাশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে দুঃস্থ মহিলা শিল্পীদের সাহায্য করা এবং তাঁদের জন্য সংস্থা ও আশ্রয়গৃহ তৈরি করা। এছাড়া ঈশ্বর চিন্তায়ও তিনি নিমগ্ন থাকতেন। নানা ঘটনা থেকে সমাজসেবার দিকে কানন দেবীর অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়।
শেষ অঙ্ক
১৯৯২ সালে বেলভিউ নার্সিংহোমে এই বিস্ময়কর প্রতিভাময়ী মানুষটি লোক চক্ষুর আড়ালে দেহত্যাগ করেন। তার তিন বছর আগে তাঁর স্বামী হরিদাস ভট্টাচার্য তাঁকে ছেড়ে বাড়ী থেকে চলে যান ।দ্বিতীয় বিয়ের থেকে তাঁর সন্তান সিদ্ধার্থ বা রানা কে মৃত্যুকালে রেখে যান কানন দেবী।
শেষ নাহি যে..
প্রায় অন্ধকার পরিবেশ থেকে উঠে এসে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে কানন দেবী যে জায়গায় পৌঁছেছিলেন, তা যে কোনো অভিনেত্রীর কাছেই স্বপ্ন। শুধু তাই নয়, সারাজীবন নিজ অর্জিত অসাধারণ সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে অপরিসীম অশ্রদ্ধা, বিদ্রূপ ও গালাগালও তাঁকে সইতে হয়েছে, কারণ তাঁর রহস্যপূর্ণ জন্ম ও চরম দারিদ্র্যে ভরা শৈশব। বিশেষ করে যে উচ্চশ্রেণীর তথাকথিত ভদ্রলোকরা তাঁকে নিরন্তর ঘৃণা ও শ্লেষ ছুঁড়ে দিতেন, তাঁরাই কিন্তু অন্ধকার সিনেমা হলে তাঁর চেহারা ও অভিনয়ের দিকে মুগ্ধ এমনকি লোলুপ দৃষ্টিতেও তাকিয়ে থাকতেন। এ ধরণের অপমান তাঁকে প্রায়ই পুরুষ সহ অভিনেতা ও পরিচালকদের কাছ থেকেও সইতে হয়েছে। মহিলাদের কাছ থেকে এসেছে ঈর্ষা ও ঘৃণা, বিদ্রুপ ও অবহেলা, বিশেষ করে অভিজাত উচ্চ বংশীয়াদের কাছ থেকে। এসব কিছু পিছনে ফেলে আত্মসম্মান বজায় রেখে এমন অনেক পদক্ষেপ কানন দেবী করেছিলেন যার ফলে পরবর্তীকালে নায়িকাদের কাছে চলার পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে গেছে। এমনকি অনেকেই নিজের “টার্মসে সিনেমা জগৎকে ডিক্টেট” করতে শিখেছেন। তবে একথাও ঠিক যে অগুনতি মানুষের কাছ থেকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও সম্মানও তিনি পেয়েছেন।
কানন দেবীর আত্মজীবনী (অনুলিখিত) “সবারে আমি নমি” পড়লে এবং বিভিন্ন ঘটনার কথা জানলে বোঝা যায় কী রকম অসহায় অবস্থা থেকে কানন দেবী শুধু অধ্যবসায় এবং অবশ্যই প্রকৃতিদত্ত প্রতিভার জোরে কোন আলোকময় এবং বিত্ত বৈভবপূর্ণ জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। স্কুল কলেজে শিক্ষা না পাওয়া কানন বিদেশে গিয়ে সাহেব মেমসাহেবদের সঙ্গেও টক্কর দিয়ে কথা বলেন। স্বাধীন ভারতের অনেক পদস্থ হোমরা চোমড়া মানুষও তাঁর সঙ্গে সম্ভ্রমের সঙ্গে কথা বলতেন। ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিনে বিদেশের সরকারি দপ্তরে তাঁকে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।কানন দেবী শুধু একজন মূর্তিমতী বিস্ময় নন, পরবর্তী মহিলাদের কাছে পরম অনুপ্রেরণা। Women empowerment এর চূড়ান্ত embodiment।
“কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আসো..”
