দো দিওয়ানে শহর মেঁ : ক্ষত সেরে ওঠার গল্প – সংহিতা রায়
নামের মাঝে দু-দুটো শ, কিন্তু সেই শ’য়ের দোষেই নাস্তানাবুদ হতে হয় শশাঙ্ককে। পাটনার ছেলে অনেক বছর মুম্বইতে। কাজ করে মার্কেটিং-এ। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও বোর্ড মিটিং থেকে কোম্পানির হাই প্রোফাইল প্রেজেন্টেশন সবেতেই কথার কাছেই তার যত ভয়। এদিকে ফটোগ্রাফিতে সে চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বাস করে সহজ ঘরোয়া জীবনে। গাড়ি-বাড়িক চক্করেও তার ভয়। বাবা-মায়ের তাগাদা আসে বিয়ে-বাড়ি-গাড়ির। মাকে যাও বা জবাব দিতে পারে, বাবার কাছে সে ‘পাপা’জ বয়’। এমন ছেলের বিয়ের জন্য বাড়িতে মেয়ের খোঁজ শুরু হল।
পাটনা থেকে মুম্বই এলেন বাবা-মা। শশাঙ্কের দেখা হল রোশনীর সঙ্গে। রোশনীর নামেও ‘শ’।
চৌকো মুখ, চৌকো চশমার মেয়ে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কাজ করে ফ্যাশন ম্যাগাজিনে। কিন্তু ট্রেন্ডকে মোটেই পাত্তা দেয় না সে। তাই লেন্সের বদলে মুখ ঢেকে রাখে চশমায়। পার্লার, স্যাঁলো থেকে শত হাত দূরে। তারও মনের অন্দরে লুকিয়ে থাকে বডি শেমিংয়ের ভয়। ট্রমা।
শশাঙ্ক-রোশনীর দেখা হয় খোলা ছাদে। বিয়েতে কিন্তু সরাসরি না বলে দেয় রোশনী। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ খুঁজতে থাকে শশাঙ্ক। সেখান থেকেই শুরু হয় দো দিওয়ানে শহর মেঁ ছবির আসল জার্নি। রবি উদ্যাওয়ার রোমান্টিক কমেডি। শশাঙ্ক এবং রোশনীর ভূমিকায় সিদ্ধার্থ চতুর্বেদী এবং ম্রুণাল ঠাকুর। জি স্টুডিও এবং ভনসালি প্রোডাকশন্স প্রযোজনা।
১৯৭৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘ঘরেন্দা’। গুলজারের লেখা, ভূপিন্দর সিং ও রুনা লায়লার গাওয়া দো দিওয়ানে শহর মে’ মাতিয়ে দিয়েছিল তামাম দেশ। সেই গান আজও অমলিন। অচেনা শহরে কঠিন জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয় পরদেশী মানুষ। দিনের শেষে ক্ষত জুড়তে বসে।
এই ছবির কাহিনিও যেন ক্ষত সেরে ওঠার গল্প। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ফেব্রুয়ারীতে। এখন দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে।
অবসরে দেখার হালকা ছবির মতো এই ছবি। হালকা চালেই বডি শেমিং, টক্সিক পেরেন্টিং-এর মতো বিষয় এসেছে। তবে এই ছবির মূল কথা- ভয় নয়। কর্মক্ষেত্র থেকে ব্যক্তিগত কিংবা জীবনে ছড়িয়ে থাকা ছোট বড় ভয়। যাদের কখনও চেনা যায়, আবার কখনও যায় না।
‘মিলেনিয়াল কাপল’ হিসাবে সিদ্ধার্থ-ম্রুণালকে ভাল লাগে স্ক্রিনে। কিন্তু নায়ক-নায়িকার রসায়ন দুর্বল। ক্লাইম্যাক্সও গতে বাধা। ভিজ্যুয়াল ভাল হলেও ছবি নুন ছাড়া তরকারির মতো। গল্পের বাঁধুনির কাছে অসহায় হয়ে গিয়েছেন অভিনেতারা।
ছবিতে অন্যান্য ভূমিকায় জয় সেনগুপ্ত, ইলা অরুণ, আয়েশা রাজা মিশ্র প্রমুখ।

