বিবর্তন- ফ্রাগমেন্টস অফ ট্রাডিশন এন্ড কন্টিনিউটি- সংহিতা রায়
আমাকে যদি স্বাধীনতার কথা জিজ্ঞেস করেন
আমি প্রথমেই বলব ভাত
যদি জিজ্ঞেস করেন জীবিকার কথা
আমি আবারও বলব ভাত…
‘ভাত’। এক মুঠো ভাতের জন্যই সভ্যতার চাকা ঘোরে। অন্নচিন্তায় কাতর হয় মানুষ। আর উত্তর-আধুনিক পৃথিবী তাকে উপহার দেয় কার্তুজ। কুনকে ভরা কার্তুজ। ক্ষমতাবানরা বোঝে না যুদ্ধের খিদের থেকেও প্রবল ভাতের খিদে। ক্ষুধার্ত মানুষ শুধু দুটো ভাত চায়। যুদ্ধ নয়। খিদের চোটে সে চিবিয়ে খেতে চায় মানচিত্র। কিন্তু ভাতের বদলে দুনিয়া মানে কার্তুজের দাদাগিরিতে। গয়নার বাক্সে রাখা থাকে সোনার ধান। সোনার চেয়ে দামী। ভিজে মাটিতে ছড়িয়ে দিলে শস্যশালিনী হয় পৃথিবী। সভ্যতা বাঁচে।
কার্তুজ ভরা কুনকে আর গয়নার বাক্সে বন্দি সোনার ধান দেখা গেল পাশাপাশি। বিবাদী বাগের কারেন্সি বিল্ডিং-এ। দিল্লির মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট আয়োজিত বিবর্তন- ফ্রাগমেন্টস অফ ট্রাডিশন এন্ড কন্টিনিউটি শীর্ষক প্রদর্শনীতে। অংশ নিয়েছেন ১২৫ শিল্পী। ছয়টি থিমে বিভক্ত প্রদর্শনী।
১. বন্দে মাতরম



২. নারীত্বর অন্তরাল






৩. ঐশ্বরিক ও লোকজ প্রতিধ্বনি





৪. দিগন্তবৃত্তের বিবর্তন










৫. মনের অন্তরাল









- নগর জীবন








জলরং, এক্রোলিক, পেন-ইঙ্ক, মিশ্র মাধ্যমে শিল্পকর্ম। ব্রোঞ্জ, ফাইবার, পাথর, কাঠ, সেরামিকস- ভাস্কর্যগুলি অনবদ্য। স্ক্রল পেন্টিং যাঁরা পছন্দ করেন এই প্রদর্শনী তাঁদের সন্তুষ্ট করবে। আছে ইনস্টলেশন আর্ট। আলোক চিত্র এবং বয়নশিল্পের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে। উপস্থাপন করা হয়েছে ভারতীয় শিল্পের বিবর্তনের ইতিহাস।
বেশ কয়েকঘন্টা সময় লাগে পুরো প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে।
কারেন্সি বিল্ডিং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভবন। এই ভবনের বয়স ১৪৩ বছর। ১৮৩৩ সালে আগ্রা ব্যাঙ্কের কলকাতা শাখার জন্য নির্মিত। একসময় ব্যাঙ্ক উঠে যায়, তখন ব্রিটিশ সরকার ইতালিয় স্থাপত্য-এ তৈরি তিনতলা বাড়িটি অধিগ্রহণ করে। এই ভবনে তখন সরকারের মুদ্রা সংক্রান্ত কাজ হত। পরবর্তী সময় এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হত।





এক সময় বাড়িটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাঙার কাজও শুরু হয়ে যায়। পরে কলকাতা পৌরসভার চেষ্টায় তা রদ হয়। ২০২০ সালে এই ভবন মিউজিয়াম হিসাবে নতুন করে পথ চলা শুরু করে। আজ এ বাড়ির ভাঙা খিলান আর ভেনিস শৈলীর কাচের জানলা, কাঠের সিঁড়ি আর উনবিংশ শতকের স্থাপত্য মানুষকে আকর্ষণ করে।
এই প্রদর্শনী দেখার পাশাপাশি দেখে নিতে পারেন ভবনটিও। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রকাশনাও কেনা যায় এখান থেকে।
প্রদর্শনী দেখা যাবে মঙ্গলবার থেকে রবিবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা। সোমবার বন্ধ।

