পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা গদ্য
তারিখ
ডা.গৌরব রায়
ডায়েরি খোলা থাকে
ঠিকানা থাকলেও হারিয়ে যায় মানুষ।
কলোনী তে জলের কল খোলা, কলতলার ঝগড়া হলেও
মানুষের দু হাত খোলা মানুষকে জড়িয়ে ধরার জন্যে হয়ত এখনও।
আসলে এই ধুলোবালি অপমান দেহ এখনো স্নানের কাঙাল।
বাজারের ব্যাগ, স্যান্ডাল, আয়না জুড়ে টিপ ,শাড়িতে লেগে থাকা হলুদ বা কালো জিরে মাখা হাত, শান্ত কলমদানী, টিভিতে একটা ক্রিকেট ম্যাচ, বেঁচে থাকার টুকিটাকি ছুতো
এসব আসলে মধ্যবিত্ত পরিবারের আশ্চর্য মায়াতান।জলের বায়োস্কোপ টল টল করে ওঠে। তখন আসলে EMI , IT file, Mutual fund AI ছিল না মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল , খেলছে সচিন মারছে সচিন, রোববার দুপুরে একটুকরো আলু আর মাংসের ঝোল, পাড়ায় ফুটবল ক্রিকেট, চৈত্র সেল , চিত্রহার, আর অপেক্ষা ছিল। সময় ছিল সবার কাছে।বিকেল হয়ে এল ছেলেটাকে কেউ খেলায় ডাকতে এলোনা আজ।
পৃথিবীর গভীরতর অসুখ এখন
তবে ওষুধ খেলেও আসলে সবটা সারে না, তারপরেও অপেক্ষা করতে হয় নওলকিশোর কে রাজকুমারীর মায়ার জন্যে।
বারবার মরে গিয়ে আমাদের ফিরে ফিরে আসার জন্যে।
“৩৬৫ দিন আমরা ক্যালেন্ডারে জন্মদিনের পাশাপাশি সম্ভাব্য মৃত্যুদিনের সাথে আমরা কাটাই” সত্যিই অবাক করে দেয়। যে দিন আপনি এক বছরে ভালো দিন কাটালেন তার পরের বছরেই সেই দিন কেউ কাছের চলে গেলেন।পা টিপে টিপে কাটানো জীবন এক ফুঁয়ে নিভে যায় মোমবাতি। “দুই দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে মৃত্যু আমি তোমাকে জন্মাতে দেখেছি”।
যে লোকটা ঝর্ণার নাম রাখে মিছিল ,নৌকোর নাম রাখে বাঁশি সে একদিন
ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে যায় ক্যাপ্টেন হুররার মত।
তোমার হাসির দাগ লাগুক সবার আকাশে।গনগনে শিখার রুমাল নাড়তে নাড়তে চলে যাচ্ছে দীনতা আর দিবারাত্রির কাব্য। স্বপ্নের আর ম্যাজিকের ডেডবডি হয়না।
জলের কিনারে শোক নিজের মুখ দেখে।আসলে যারা অন্যরকম তাদের কে ফোনে পাওয়া যায় না আসলে ফোনের ভেতরে বৃষ্টি পড়ে বারোমাস তাদের কথা আর শুনতে পাইনা।
যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি যদি মানুষের পাশে না বসি তাহলে তোমার কথা শুনতে পাবো না।
আসলে শতাব্দী শেষ হয়ে আসছে তো
তাই একটু লোকটা পা চালিয়ে চলে গেছে আগে
আমরাই যা ব্র্যান্ড সামলাতে সামলাতে পিছিয়ে পড়েছি।
মোটরসাইকেল ডায়েরিটা খোলা সেখানে লেখা মানুষের ঠিকানা মানুষ, ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু
মুখে মেঘের রুমাল বেঁধে
আসছি বলে সেই আশ্চর্য লোকটা বেরিয়ে গেছে পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্ট কে খুঁজতে…

