পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা গল্প
বাড়ি ফেরার গান
শুভ্রা রায়
(১)
লোকে বলে আমি ঠিক আমার মায়ের মতো। অন্তত চোখদুটো আর এভাবে সাজলে আমাকে নাকি হুবহু মায়ের কপি পেস্ট লাগে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়িটা ঠিক করে পরতে পরতে ঠিক প্রতিবারের মতোই কথাগুলো মনে এসেছিল রাহির। আর মনে পড়ার সাথে সাথে হেসে ফেলেছিল ও। ও কখনোই মায়ের মতো হতে পারবে না। আসলে আমরা দেখতে কিম্বা স্বভাবে খানিকটা আমাদের মা বাবার মতো হলেও আদোও কি ঠিক সেই মানুষটার মতো হতে পারি? পারি না। আর রাহি জানে অন্তত ওকে ওর মায়ের মতো হতে হলে এখনো অনেক, অনেকটা বড় হতে হবে। আর, আর অনেকটা পথ চলতে হবে মায়ের দেখিয়ে দেওয়া ভালো মন্দের আলোটা জ্বেলে।
আমি এসব বুঝি না। আসলে অনেক কিছু ই না বুঝে এড়িয়ে যেতে চাই। এইযে হয়তো আমি অনেকটাই আমার বাবার মতো দেখতে। বলতে গেলে একটু বেশিই। কিন্তু তাতে তো আমার কিছু যায় আসে না। যে মানুষ টাকে দেখিনি, শুধু যার গল্প শুনেছি, তার মতো আমি কতটা, না এটা জানার কোন ইচ্ছে আমার আছে। না তার মতো হওয়ার কোন ইচ্ছে আমার আছে। শুধু যখন লোকজন বলে, তোকে হুবহু তোর মায়ের মতো দেখতে লাগছে, তখন ভারি আনন্দ হয়। আমি আরও বেশি বেশি করে আমার মায়ের মতো সাজি। যাতে ভগবান চেহারায় যতটুকু ঐ বাবা নামের মানুষটার ছাপ রেখে গেছে, সবটুকু যেন ঢাকা পড়ে যায়। আমি যেন আরও বেশি আমার মায়ের মতো হই।
জন্মের পর থেকে রাহি কখনো ওর বাবাকে দেখেনি। না, ছবিও দেখেনি। ওর মা কখনো চিনতে দেয়নি মানুষটাকে। তবে রাহি জানতো মানুষটাকে। রাহি গল্প শুনতো তার। গল্প শুনতো দুটো বন্ধুর। অদ্ভুত একটা প্রেমের। ঝগড়া, খুনসুটি। বই নিয়ে মারপিট। আর লেখা উপন্যাসের চরিত্রের বিশ্লেষণ নিয়ে চেনা দুই বন্ধুর ঝগড়া করে কথা বন্ধ করে দেওয়ার গল্প। শুনে শুনে রাহির কখনো মনে হয়নি মানুষটাকে ও চেনে না। গল্প গুলো শুনতে শুনতে বুঝতে পারতো ছোটবেলায় অন্য ছেলেমেয়েদের বাবাকে দেখতে দেখতে যে অভিমানের পাহাড় টা বুকের ভেতর জমতো, সেটা কোথাও যেন ভেঙে গুড়ো গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারতো ও যতোটা চাইছে ঠিক ততটা আর রাগ করে থাকতে পারছে না ঐ মানুষটার ওপর। ঠিক তেমন করে আর ঘৃনা জমিয়ে রাখতে পারছে না অদেখা ‘বাবা’ নামের একটা মানুষের জন্য। বরং কোথাও গিয়ে না থেকেও জমিয়ে থেকে গেছলো মানুষটা ওদের মা মেয়ের সংসারে।
(২)
পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়া, লেখা আর নতুন নতুন জায়গায় যাওয়ার ভীষণ সখ রাহির। মা কে কখনো ঠিক ভুলের গন্ডি টুকু চিনিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন কিছুতে বাধা দিতে দেখেনি রাহি।হয়তো মানুষটা জানতো আগলে রাখার চেয়ে লড়াই করতে দিলে মানুষ নিজের ভালো মন্দ তাড়াতাড়ি শেখে। রাহি ও মেনে নিত সবটুকু।বুঝতো ঐ একটা যায়গা থেকে বারন আসা মানে সেটা কখনোই ওর ক্ষতির জন্য নয়। আর তাই হয়তো অনেক কম বয়সেই অনেক বেশি নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা, নিজের ঠিক ভুল বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছলো ওর। বাকিটুকু সামলে দেওয়ার জন্য মাদার অফ রাহি তো রয়েইছে।চিন্তা কোথায়।
বেশ কয়েক মাস আগে একজন নতুন লেখকের একটা বই এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেছলো রাহি। এরকম যায়গায় বরাবর যায় বলে চেনা মানুষ নেহাত কম হয়নি ওর এই ক্ষেত্রটাতে। সেখানে গিয়েই আলাপ হয়েছিল একজনের সাথে। বয়স টাকে শুধুমাত্র সংখ্যা ধরলে বন্ধুত্ব টা জমতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রেও লাগেনি। আজ কয়েকমাসে সেটা বেশ মিষ্টি একটা যায়গায় পৌঁছে গেছে। অতবড় একজন মানুষ, কিন্তু বই, নতুন লেখা নিয়ে আলোচনা করার সময় কি সাবলীল ভাবে নিজের কথা বলার, অন্যদের মতামত শোনার ধৈর্য রাখেন। একেই বোধহয় প্রকৃত শিক্ষিত বলে। আর এই শিক্ষার নম্রতা, এই শালীনতাবোধ, এই সহজ সরল দৃষ্টিভঙ্গী, এই মার্জিত ব্যাবহার খুব সহজেই যায়গা করে দিয়েছিল মানুষটার রাহির মনের ভেতর। তবে রাহির সবচেয়ে ভালো লাগে মানুষটার চোখ দুটো। মনে হয় আস্ত দুটো সমুদ্র জমিয়ে রেখে দিয়েছে কেউ । আবশ্য মা বলেই ছিল যে…..
আজ বেশ কিছুদিন ধরে দেখছে রাহি মানুষটা একটা দোটানায় ভুগছে। রাহি ও কিছুদিন পর থেকেই একটা টান অনুভব করতো মানুষটার জন্য। আর আজ নিজের চোখে দেখছে ওপাশেও সেই টান সমান ভাবে রয়েছে। তাই রাহি ভেবেছে একবার সামনাসামনি বসে কথা বলবে। আর তার জন্যই আজ বিকেলে রবীন্দ্রজয়ন্তী র অনুষ্টানের আগে মুখোমুখি হতে হবে মানুষটার। আর সব জানার পর তো রাহি জানতই, আজ না হোক কাল মুখোমুখি এই নিয়ে কথা বলতেই হবে। সামনে দাড়াতেই হবে। তাহলে দেরি করে কাজ কি। যে টান, যে যন্ত্রনা দুজনের বুকের ভেতর জমছে, সেটা বাকি জীবন থাকবে বেঁচে, নাকি শেষ সুতোও ছেঁড়া হয়ে যাবে, সেটা জানতে হবে না রাহিকে?
রাহি জানে সমুদ্রে জোয়ার এলে শুধু একটা পাড় ভেজে না। এ টান শুধু ওর একার তরফের নয়। এই চোখের দেখা টুকু দেখতে পাওয়ার খিদে শুধু ওর একার নয়। জোয়ার অন্য বুকটাতেও আসে। শুধু তফাৎ একটাই, কোন জোয়ার উজাড় করে দিতে আসে। কোনটা সব গুটিয়ে নিয়ে যেতে আসে। কিছু টান শুধু শরীর ঘিরে আসে, আর কিছু টান তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু হয়। আজ রাহিকে যাচাই করতে হবে অনেক কিছু। আজ তো শুধু ওর হার জিতের দিন নয়। আজ নেপথ্যে থাকা আরও একজনের পরীক্ষা। দেখা যাক কে জেতে?
(৩)
পার্কের বেঞ্চে বসে আছেন প্রফেসর রোহিত মুখার্জী। চাইলে কোন দামি কফিশপে কিম্বা রেস্তোরাঁ তে গিয়ে বসতেই পারতেন। কিন্তু না, হয়নি সেটা। যার সাথে দেখা করতে এসেছেন ওসব জায়গায় সে যেতে চায়নি। বরং খানিকটা তার জোরাজুরিতেই এখানে আসা। কিন্তু যার জন্য আসা, সে কোথায়?
অনেকদিন পর বেশ তৈরি হয়ে এসেছে ও। জিন্সের ওপর সর্ট পাঞ্জাবি, ব্লু কালারের। ছিপছিপে চোয়াল আর জোড়া ভ্রু এর সাথে মানিয়ে যাওয়া চশমা। আর চশমার আড়ালে থাকা দুটো সমুদ্রের মতো চোখ। মেয়েরা আজও সব ছেড়ে এই চোখ দুটোর প্রেমে পড়ে যায়, কথাটা মনে আসতেই নিজের মনে হেসে ফেলেছিল রোহিত।
হালকা ভাবে বেঞ্চটাতে হেলান দিয়ে বসতেই হঠাৎ স্কুটির আওয়াজে আবার সোজা হয়ে বসেছিলেন। ঐ এল, রাহি। হ্যাঁ, রাহি। আজ কয়েক দশক পর মেয়েদের হার্ডথ্রব প্রফেসর আর এম একটা নিজের অর্ধেক বয়সের কাছাকাছি মেয়ের জন্য এখানে বসে আছেন। একটা বই উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে রোহিতের আলাপ হয় রাহির সাথে। ছিপছিপে গড়ন, শ্যামলা গায়ের রং। আর দুটো চোখ। কেন যে চোখদুটো ভীষণ টান ছিল ওকে, বুঝতে পারেনি রোহিত। হালকা খেসের শাড়ি, অক্সিডাইজার এর গয়না, কাজল আর কালো টিপি। রোহিতের মনে হচ্ছিল এরকম একটা মুখের দিকে তাকিয়ে ও সারাটা জীবন কাটাতে পারে। বই নিয়ে কথা বলতে বলতেই আলাপ বাড়ে, বন্ধুত্ব বাড়ে। লেখা, কবিতা, আঁকা আর বেড়ানো…. এই চারের সমষ্টি বন্ধুত্ব টা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল ওদের। অদ্ভুত একটা শিহরণ তৈরি হত রোহিতের রাহি কে দেখলেই। না কোন শারীরিক টান নয়, অদ্ভুত একটা মানসিক টান। এটা কি প্রেম নাকি অন্য কিছু। বুঝতে পারছিলেন না এতো বয়সের পোড় খাওয়া রোহিত।আর খানিকটা এই প্রশ্ন গুলোর উওর খুঁজতেই আজকে দেখা টা করতে চেয়েছিল রোহিত , রাহির সাথে।
দূর থেকে দেখা যাচ্ছে, রাহি আসছে। মধুবনী প্রিন্টের একটা শাড়ি।সেই কালো টিপ। ভেতরে ভেতরে কেমন যেন একটা ভাঙন ধরছিল রোহিতের। কাছে এসে ওর পাশে বসেছিল রাহি। রোহিতকে কিছু বলতে না দিয়েই আস্তে আস্তে বলেছিল,
আমি জানি আপনি কি বলতে এসেছেন আজকে। তার আগে আমার কিছু বলার আছে। মা বলে, আপনার ক্ষমতা নেই মা কে ছেড়ে, ভুলে গিয়ে অন্য কারো সাথে থাকার। যদিও অন্য কোথাও অন্য কারো কাছে পৌঁছেও যান, স্থির হতে পারবেন না।থিতু হতে পারবেন না।থামতে পারবেন না।অতটা ক্ষমতা নেই আপনার।আর এই যে আপনার আমাকে পছন্দ না, এটাই একটাই কারনে। আমার চোখ, সাজ, এমনকি অনেকটাই আমি মহুয়ার মতো দেখতে। তাই নয় কি? বিশ্বাস করুন মা যখন বলেছিল, বিশ্বাস হয়নি আমার। তবে এতোটা অবিশ্বাস ও জোগাড় করতে পারিনি ঐ মানুষটাকে দেখে। আর আজ তোমাদের দুজনকে দেখে মনে হচ্ছে, এভাবেও কেউ ভালোবাসতে পারে? এই স্বার্থপরের পৃথিবীতে এভাবেও কেউ মনে রাখতে পারে?
চমকে উঠেছিল রোহিত নামটা শুনে? এই বাচ্চা মেয়েটা ঐ নামটা জানলো কোথা থেকে? তবে কি, তবে কি…
রোহিতের ভাবনা শেষ হবার আগেই রাহি আবার বলতে শুরু করেছিল,এই বই টা মা তোমাকে দিতে বললো বাবাই। যদি আর কিছু জানার থাকে মা ই বলবে। আমি আসি। বন্ধুরা দাড়িয়ে আছে। পঁচিশে বৈশাখের অনুষ্ঠান আছে। আজ তোমাদের রবি ঠাকুরের জন্মদিন।আশা করি ভুলে যাওনি?। আর হ্যাঁ, বাবাই বলে ডাকলাম বলে কি কিছু মনে করলে? তোমরা কি ঠিক করবে জানি না। তবুও অন্তত একবার তোমাকে বাবাই বলে ডাকবার লোভ সামলাতে পারলাম না, সরি। আসি আজ। হয়তো আবার দেখা হবে…..
বলে চলে গেছলো রাহি।এক লহমায় মনে পড়ে গেছলো রোহিতের অনেক কিছু।কলেজ থেকে মহুয়ার সাথে বন্ধুত্ব,প্রেম। প্রথম কলেজের কমিউনিটি হলে পঁচিশে বৈশাখের অনুষ্ঠান,মহুয়ার কবিতা,লাল পাড় শাড়ি,খোঁপায় গোড়ের মালা,কাজল মাখা চোখ আর হ্যাঁ,কালো টিপ।ওদের জীবন রঙ জমাচ্ছিল আড্ডা,বই,লেখালিখি জুড়ে।সাথে হুটহাট ঘুরতে চলে যাওয়া।আর মহুয়া চাকরি পাবার পর ওর সাথে সেই পাহাড়ের অচেনা পথে বেড়াতে যাওয়া।ফিরে এসে ঠাকুমার অন্য জাতের মেয়েকে বিয়ে করতে চাওয়ায় আত্মহত্যার হুমকি।বাবার মহুয়ার হাত ধরে ফিরে যেতে বলা।মহুয়ার হঠাৎ সবকিছু থেকে দূরে চলে যাওয়া, নিখোঁজ হয়ে যাওয়া।আর মাঝখানে কুড়ি টা বছর ওর কোন খোঁজ না রাখা। হঠাৎ সবকিছু হারিয়ে যাওয়া।।কোথাও ও স্বামী, সন্তান,সংসার নিয়ে ও ভালো আছে এই ভেবে নিয়ম ছাড়া একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া।ঠিকানা বিহীন ভাবে ছুটে চলা একটা আস্ত জীবন। সময়ের টানে কত মেয়েদের কাছে আসা।তবে তাও ঠিক ততটুকু,যতটুকু প্রয়োজন।ভাবতে ভাবতে চোখ পড়েছিল হাতে ধরে থাকা প্যাকেটটার দিকে। খুলতেই বেরিয়ে এসেছিল একটা পুরনো সঞ্চয়িতা। বছর কুড়ির রোহিত কোন এক মহুয়া কে দিয়েছিল। স্মৃতির সাথে সাথে বই এর প্রথম পাতাও খুলেছিল রোহিত। ভারি যত্ন করে লেখা….
কোন একদিন তুমি হয়ে যেও আমি,
আমি হয়ে যাবো ঠিক তোমারি মতন…
শুধু তোমার আমার ভালোবাসা,
এমন করেই রয়ে যাক চিরন্তন….
নিচে একটা ফোন নম্বর আর দুটো লাইন লেখা, আর কারো সাথে থাকার ইচ্ছে শেষ হলে নিজের ঘরে ফিরে এসো। অপেক্ষায় রইলাম….
ঠিকানা দিলাম। আসবে তো?….
রোহিত বই টার ভেতর নাক ডুবিয়ে জোরে শ্বাস টানলে। গন্ধ নিল। শুধু বইটার?নাকি দুটো মায়াভরা চোখ, একটা কালো টিপের?একটা ঠোঁট চিপে হাসা হাসির?নাকি মহুয়া আর ওর নিজের অনেক দিন আগে ফেলে আসা একটা সংসারের?
কে জানে…
যেতে যেতে পেছন ফিরে দেখেছিল রাহি, একজন রবি ঠাকুরের লেখার পাতায় পাতায় নিজের গল্পের, নিজের ভালোবাসার গন্ধ বুক ভরে নিচ্ছে। পুরনো রবিঠাকুরের কবিতার গায়ে আজও মহুয়ার গন্ধ ততটাই নতুন হয়ে জড়িয়ে আছে। রাহি দেখছিল, একটা মানুষ সমুদ্রের মতো চোখদুটো বন্ধ করে তার জীবন সমুদ্রের গন্ধ নিচ্ছে বুক ভরে। হারেনি, রাহির মা আজো হারেনি। পৃথিবী আজও ভালোবাসলে ভালোবাসা ফেরাতে জানে। দুহাত ভরে ফেরাতে জানে। হয়তো কখনো কখনো একটু দেরি হয় …. আর এবার তো মনের যুদ্ধ ছিল মেয়ের সাথে মায়ের। আর সন্তান কক্ষনও তার বাবা, মা কে হেরে যেতে দেখতে চায় না। কক্ষনও না…
উঠে পড়েছিল রোহিত। এবার যেতে নয়, ফিরতে হবে তো। শেষ ঠিকানায়।সেখানে ফিরতে হবে যেখানে বসে কোন পথিক জিরোয় না, কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। অনেক দিনের শেষে পাওয়া ফেরার ঠিকানা কি কেউ এমনি এমনি হারাতে পারে।
বই টা বুকের কাছে জড়িয়ে ধরেই রাস্তার দিকে এগিয়ে গেছলো রোহিত। অগুনতি গাড়ি পেরোচ্ছে রাস্তা দিয়ে। কেউ ঠিকানা খুঁজতে যাচ্ছে। কেউ ঠিকানা পেয়ে। ওকেও এবার বাড়ি ফিরতে হবে। সবদিনের জন্য…
হাত উঠিয়েছিল রোহিত,চিৎকার করেছিল…..অটো, দাড়াও……..
বাড়ি ফেরার শেষ ঠিকানা পেয়ে গেলে মানুষ বোধহয় একটু বেশিই অধৈর্য হয়ে পড়ে, শেষ বারের মতো।
……….. সমাপ্ত……..

