‘সপরিবারে দেখবেন না এই ছবি!’ – সংহিতা রায়
আপনি কি রকমারী ধরনের খুনোখুনির ভক্ত?
স্ক্রিনে রক্তের বন্যা দেখলে শিরার রক্ত টগবগিয়ে ছোটে?
সেক্স, ভায়োলেন্স, অপরাধের অন্ধকার জগৎ দেখতে প্রচন্ড ভালবাসেন?
সব উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে আপনাকে দেখতেই হবে ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’।
বাংলায় সরকার বদলের পর সরকারি প্রেক্ষাগৃহ নন্দন এবং রাধায় তৃতীয়বার মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। আবার ২৯ মে থেকে ওটিটি-তে (জি-ফাইভ ) দেখা যাচ্ছে ছবির আনসেন্সরড ভার্সন।
‘সপরিবারে দেখবেন না এই ছবি!’
ছবি মুক্তির আগেই দর্শকদের সতর্ক করেছিলেন ছবির পরিচালক জয়ব্রত দাশ। ৫৪টি কাটছাটের পরে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছিল ছবি। তবে ‘এ’ ট্যাগে। মুক্তি পেয়েছিল ২০২৫-এর নভেম্বর।
নতুন করে সরকারি হলে মুক্তির পর রমরমিয়ে চলেছে ছবি। প্রতিদিন উপচে পড়া ভিড়। লম্বা স্ট্রাগলের পর ছবির এহেন সাফল্যে চওড়া হাসি অভিনেতা থেকে পরিচালক সকলের মুখেই।
‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ পাল্প অ্যাকশন থ্রিলার। অ্যাকশন আর থ্রিলার দুই রয়েছে, পরকীয়া, ‘ভাইবোনের যৌনতা’, বিষাদ, আগুনে অপভাষা, জটিল মানবিক সম্পর্ক সব পাবেন দর্শক।
গল্পের প্রেক্ষাপট একটি অ্যান্টিক মদের বোতল নিয়ে। ছবির প্রায় সব চরিত্রই এক একজন অপরাধী! কেউ হিটম্যান, কেউ তালা ভাঙার শিল্পী, কেউ হাতসাফাই ওস্তাদ আবার কেউ বাঘা ব্লু প্রিন্ট বানিয়ে।
সবার লক্ষ্য ওই মদের বোতলটি। একের পর এক প্ল্যান আর এন্টি প্ল্যান নিয়ে তৈরি হয়েছে কাহিনির বুনোট।
এই চুরি আসলে অনেকটা জার্নির মতোই। তার মাঝে ঘটতে থাকে একের পর এক রোমহর্ষক ঘটনা।
একটা মদের বোতল বদলে দেয় সবার জীবন।
এই মুহূর্তে যারা দল বেঁধে নেচে, গেয়ে, রেঁধে, খেয়ে খুশির উদযাপন করছিল পর মুহূর্তেই তারা হয়ে ওঠে একে অপরের হন্তারক। প্ৰিয় পোষ্যও নিস্তার পায় না মানুষের আগ্রাসী লোভ থেকে। পরিণতি রান্নাঘরের প্রেসার কুকার! বাংলা ছবিতে এমন ভয়াবহ ভাবনার প্রয়োগ আগে দেখা যায়নি। তবে এ ধরনের পাল্প ফিকশনের বৈশিষ্ট্য এই চড়া ধাঁচের ভায়োলেন্স।
রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু, অমিত সাহা, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, সুদীপ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ অভিনয় করেছেন এ ছবিতে।
ছবিতে নগ্ন দৃশ্য-এ দেখা গিয়েছে ঋষভ বসুকে। বাংলায় হাতেগোনা ছবিতে পুরুষ অভিনেতা এমন সাহস দেখিয়েছেন। যদিও প্রেক্ষাগৃহে সে দৃশ্য ঝাপসা।
নীল সাদা রঙের টানা মেসবাড়ি, হাইরাইজ, শহরের স্কাইলাইন আর নীল মেঘ, রাতের জোনাকি আলো -কলকাতা এ ছবিতে মোহময়ী। তবুও চোখ এড়ায় না তার বিষাদ। এ ছবির ‘জীবন’ সৌরভ দাসের বিষাদ নজর কাড়ে। নজর কাড়ে এক বিবাহ বার্ষিকীর দিন মেঘ কুয়াশার মধ্যে তার লাশ গায়েবের দৃশ্য। এক হিটম্যানের অন্তর আর বাহির এক হয়ে যায় আশ্চর্য ধূসরতায়। প্রতিটা ক্লোজআপ ফ্রেম আলাদা মাত্রা দিয়েছে ছবিকে। তেমনি সাদা-কালো মুহূর্তরা। গ্রাফিক্স নিয়েও মারকাটারি পরীক্ষা চালিয়েছেন পরিচালক। ছবির পোস্টার আর টাইটেল কার্ড ছক ভেঙেছে টলিউডের।
আড়াই ঘন্টার সিনেমায় দ্বিতীয়ার্ধে খানিক গতি কমলেও মাস্টারস্ট্রোক শেষ কয়েক মিনিট। যা দেখে ঘেঁটে যাবে আগের হিসেব-নিকেশ এবং দর্শক ভাববেন- এই অঙ্ক মেলাতে ফের আসতে হবে হলে!
এই ছবি এক নতুন পরিচালকের যুদ্ধ জয়ের কাহিনি। ছবি বানাতে যেমন কষ্ট তেমন মুক্তি পেতেও হেনস্থার একশেষ। টলিউডের তৎকালীন ভাগ্যবিধাতারা আটকে দিয়েছিল এ ছবি, ইমপা কাঠগোড়ায় তুলেছিল টিমকে। শেষ পর্যন্ত ছবি মুক্তি পায়। প্রেক্ষাগৃহ এবং বক্সঅফিসে সাফল্যও আসে। তবে আটকে দেওয়া হয় সরকারি হলে। এই নিয়ে ৩-৩বার মুক্তি পেল ছবিটি। কথায় বলে শেষ ভাল যার সব ভাল তার। পরিচালক আর অভিনেতারা নিশ্চয়ই যুদ্ধের ক্ষত ভুলবেন…

