পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা কবিতা
বন্দিশ ঘোষের কবিতা
মাতব্বর
আরেকরকমভাবে দেখা যায় সবকিছু –
চারিদিকে শুধু ঘর্ষণ আর ঘর্ষণ
অনবরত বিস্ফোরণ!
নষ্ট হয়ে যাওয়া আলোবাতাসহীন একটা মাথা,
মাতব্বর, মূর্তিমান ভণ্ড একটা প্রাণী
যার সারা শরীরে জাপটে ধরে আছে পাপ –
যে দিনরাত দখল নেয়
একের পর এক গ্রাম, শহরের অলিগলি
আর চেটেপুটে খায় ঈশপের সব গল্পগুলো
মান্ধাতা আমলের তৃষ্ণা নিয়ে…
পেছন ফেরার রাস্তায়
নেশাগ্রস্ত নদী হয়ে বয়ে যেতে ইচ্ছে করে
সে বিকেল তিনটে বাজুক বা রাত বারোটা –
গালফোলা গোবিন্দ হয়ে খাটিয়ায়
উলটে পড়ে থাকতে চাই না,
রেস্তোরাঁয় শান্ত হাসিমুখ নিয়ে
জীবন কাটিয়ে দিতে চাই না –
এসব ভাবতে ভাবতে ঘনিয়ে আসে ছায়াদুপুর
পেছন ফেরার রাস্তা ক্রমশ ক্ষীণ হতে শুরু করে,
সব নিরুপায় বিজ্ঞাপনগুলো হারিয়ে যায় –
তবে ঝিকমিক করে একটা রেডিয়াম
বহুদূরে এ যেনো এক আশ্চর্য!
খবর
ভেবেছি খবর দেবো,
আমার ভীষণ জ্বর –
একা পড়ে আছি ঘণ্টাখানেক বিছানায়,
এক অলীক মাথা ব্যথা…
উঁচু উঁচু বাড়ি ভেঙে যায়
বস্তি ভেঙে যায় – ক্ষতবিক্ষত সব মুখ…
ভেবেছি খবর দেবো –
কিন্তু কেউ কোথাও নেই
কোনো কথা নেই, বার্তা নেই –
আমার কথাবার্তাহীন এই মুখটা
ঝুলিয়ে রাখি মশারির দড়ির সাথে…
এই মুখটাও একদিন ঢুকে পড়বে
ওই আলোয় ঝলমলে রাতে,
খুঁজতে বেরোবে বন্ধুদের মুখ
প্রেমিকার মুখ মা বাবার মুখ –
আর নাক ডেকে ঘুমোবে
রাতের পর রাত…

