ঝিনুক – ডা অনির্বাণ জানা
অপারেশনের সময় ডাক্তার ভাবতে পারেননি অতটা রক্ত মাথার ভেতর জমেছিল। ঝিনুকের মতো খুলির হাড়টা সাধারণত অপারেশনের পরে আটকে দেন তিনি। আপনমনে বলে ওঠেন “এই ঝিনুকে আর সাগরকে বেঁধে রাখা যাবেনা।” টুকরোটাকে ফেলে দেবার সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তারবাবু। কারণ তাঁর ডাক্তারি অভিজ্ঞতা বলছে যে অতটা রক্ত মাথার ভেতর জমে থাকলে রোগিণী বাঁচেনা। সীমন্তিনী দেবী আর বাঁচবেননা। ওনার মেয়ে, রোমিলা না কি যেন নাম, তাকে ঝিনুকের মতো খুলির টুকরোটা দেখিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে।
রোমিলার সাথে ওর মায়ের সম্পর্কটা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো সুমধুর। কিছুদিন দু’পক্ষই চুপচাপ মানে সেই মুহূর্তে যে যার অস্ত্রশস্ত্র শান দিয়ে রাখছে। যেকোনো সময় যে কেউ ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের জন্য প্রস্তুত থাকে দু’পক্ষই। মায়ের কার্যকলাপ কদিন ধরেই ভালো লাগছিল না রোমিলার। বড্ড বেশি চুপচাপ। প্রথমে ঋষিই ব্যাপারটা খেয়াল করে। মা পারতপক্ষে ওদের সাথে খায়না। জাত চলে যাওয়ার ভয়। খাবার টেবিলে আলগোছে মায়ের ঝিমিয়ে থাকার কথাটা তোলে ঋষি। নিচু জাতের হলেও জামাই-এর সাথে প্যাক করে নিয়েছে মা, নাহলে রোমিলাকে বিপদে ফেলা যাবে কি করে? শিমলা বেড়াতে গিয়ে পরিষ্কার দেখেছে জামাই-এর মুখে কাটা ফল ঢুকিয়ে দিতে, তাও আবার নিজের প্লেট থেকে তুলে। বাবা যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন একই খেলা খেলে গেছে সীমন্তিনী দেবী। বাবার কাছ থেকেও দূরে রাখার চেষ্টা করতো রোমিলাকে। অবশ্য বাবা বেশ ডিপ্লোমেটিক ছিলো। সহজে কোনো পক্ষ নিতো না। মায়ের এই পজেসিভনেসটা অবশ্য বাবার মৃত্যুর পর একটু কমেছিল।
রেখাদি চব্বিশ ঘণ্টার লোক। রেখাদিও খাবার দিতে দিতে জানায় যে মাসীমা দুদিন ধরে সেভাবে কিছু খাচ্ছেনা। রোমিলার ইচ্ছে ছিলনা, তবু ডিনার শেষে মায়ের ঘরে যায়। তবে মায়ের ঘরটা এখন বেশ অগোছালো হয়ে আছে। টি-টেবিলটা বিছানার সাথে তিরিশডিগ্রী কোণে বেঁকে আছে। শীর্ষেন্দুর একটা বই খোলা অবস্থায় মায়ের পাশে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। বেডসাইড টেবিলের ক্যালেন্ডারের পাতা দু’দিন আগের তারিখ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মা এমনিতে খুব গোছানো স্বভাবের। সীমন্তিনীকে ঠেলা দেয় রোমিলা, প্রথমে ঠিকভাবে তাকালেও চিনতে পেরে মুহূর্তে ভুরুতে কুঁচির কাজ শুরু করে দেয় মা। “কিচ্ছু হয়নি, কিচ্ছু হয়নি” বলে বেরিয়ে আসে রোমিলা। মা এখন গান্ধীজির স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে – অসহযোগ আন্দোলন, অনশন!
তবু ঋষি পরদিন জোর করেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় মাকে। ঋষির বন্ধুগ্রুপের অনেকেই ডাক্তার। ফলে হুটহাট করে ডাক্তার দেখানো স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে ঋষির। ডাক্তারবাবু ‘যাহা জানো লেখো’র উত্তর লেখার স্টাইলে পাতাজোড়া ইনভেস্টিগেশন লিখে দিয়েছিলেন। পৃথিবীতে কোনও মানুষই সম্পূর্ণভাবে সুস্থ নয়। আর সব রিপোর্টই কি সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরের ক্লোন যে সব ঠিকঠাক বলবে? মায়ের মাথায় নাকি রক্তক্ষরণ হয়েছে। ঋষি ফোনে কথাটা জানাবার সময় এমন ফিসফিস করে বলছিল যেন রোমিলা সুপারি কিলার, আর সুপারি কিলার যে ঠিকঠাক কাজটা করতে পেরেছে সেটা জানাচ্ছে।
“তুমি কি ভাবছো আমি মাকে মারধোর করেছি?” মায়ের মাথার আঘাতটার জন্য যেন রোমিলাই দায়ী! সামনে ঋষিকে পেলে ওর মাথায় রক্তক্ষরণের কারণ হয়ে যেত রোমিলা। ঋষি একইরকম ফিসফিসে গলায় জানায় যে মাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বাইপাসের ধারে একটা প্রাইভেট নার্সিংহোমে ভর্তি করা হবে ঠিকও করে ফেলেছে।
ব্যাস, মা আবার ফুটেজ পেয়ে যাবে। হয়তো মাথার ছবির ওই দাগটা আগে থেকেই ছিল। হয়তো ওটা কোনো সাধারণ ব্যাপার। নাহলে দুচার দিন ধরে কেউ ঠিক থাকে? আর মাথায় রক্ত জমারও তো একটা কারণ থাকবে? মাথায় রক্ত জমে আছে জেনে গেলে মাতো সায়রাবানু, হেমা মালিনী, রেখা থেকে শুরু করে শ্রীদেবী, মাধুরী, সানি লিওনির ওপর দিয়ে যাবে। এমন ফাটিয়ে অভিনয় করবে যে মনে হবে মাথার ভেতর বুলেট ঢুকে বসে আছে।
রোমিলা বিরক্ত হয়। মাসের এইসময়টায় অফিসে খুব চাপ থাকে। লোকে ভাবে সরকারি বা আধাসরকারি অফিসে কাজকর্ম নেই। মনে হয় তাদের কাউকে এইসময় ওর জায়গায় বসিয়ে দেয়। খারাপ জায়গা দিয়ে আমচারা না গজালে ওর নাম রোমিলাই নয়। আর এইসময়েই মাকে এইসব খেলা না দেখালে চলছিল না।
ইনশিওরেন্সের কারণে রোমিলাকে অফিস ছেড়ে বেরোতেই হ’ল। রোমিলার সই লাগবে ভর্তির সময়। ওর বস সুখবিন্দর সিং-এর বাড়ি পাঞ্জাবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না। এমন হুঁকোমুখো হ্যাংলার বাড়ি বাংলাতেই হবে। অফিস থেকে বেরনোর কথা বলতে এমন মুখ করে তাকালো যে মনে হল বছর খানেক পটি আটকে আছে।
বাইপাসের ধারে ওই হাসপাতালে ভর্তি হতে বেশি সময় লাগলো না। ঋষি মাল্টিন্যাশনাল ফার্মের সিইও, যেকোনো জায়গা ও পরিস্থিতিতে খেজুর করতে ওস্তাদ। এখন ডাক্তারদের একটা গ্রুপে মধ্যমণি হয়ে কিসব গুজুরগুজুর করছে। মাঝেমাঝে চোরাচোখে ওর দিকে তাকাচ্ছে দেখে রোমিলার সন্দেহ হয় এখানেও হয়তো গ্লাস ঠোকার প্ল্যান কষে নিচ্ছে। ঋষির ধারণা পৃথিবীর সবধরনের কঠিন সমস্যার সমাধান মদ। আর আশ্চর্যের ব্যাপার মাতালগুলো পরস্পরকে খুব সহজে চিনে নিতে পারে। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার, এই করে ঋষি কাজটাও ঠিক গুছিয়ে নেয়। আধঘন্টার মধ্যে মা বেড পেয়ে গেলো। মা হঠাৎই রোমিলার হাত ধরে বলে “ঋষি ঠিক তার মতো, বিশ্বাস করা যায়।” বলেই রোমিলার হাত ছেড়ে দেয়। মনটা কেমন করে ওঠে রোমিলার।
বড়ো ডাক্তারবাবু এসে জানিয়ে গেলেন বিকেলের মধ্যে অপারেশন করবেন।
———————————————-
কাগজে ছোট করে খবরটা বেরিয়েছিল। দীঘার সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন যুবক। কিন্তু খবরটার পেছনে অনেক বড়ো গল্প কষ্ট করে চাপা দেওয়া হয়েছিল। নাহলে যে স্কুলের মানসম্মান থাকেনা।
আটের দশকের শেষের দিক। শহরতলির এক নামকরা স্কুলের সাতজন শিক্ষক আর তিন শিক্ষিকা পূজোর ছুটিতে দীঘা বেড়াতে এসেছিলেন। উদ্যোগ নিয়েছিল সুতনু। ভীষণ রকম হৈচৈ করে মাতিয়ে রাখতো টিচার্সরুম।
সুতনু ছিলো একঝলক খোলা হাওয়া। সীমন্তিনীদের বাড়ির আবহাওয়া বেশ সেকেলে। মা মারা যায় ছোটবেলায়।বাবা মেয়ের ছেলেবন্ধু পছন্দ করতেন না। রাশভারী মানুষ ছিলেন। ছোটবেলা থেকে বাবাকে ভয় পেয়ে বড়ো হয়েছে সীমন্তিনী। গ্র্যাজুয়েশনের সময়েতেও ছেলেদের সাথে কথা বলতে গেলে বাবার মুখটা মনে পড়ে যেতো। কোএডুকেশন স্কুলে চাকরি পেতে বাবাই অবশ্য বলেছিল “কি আর করা যাবে? চাকরি যখন পেয়েছো, জয়েন করাই উচিত।” আসলে চাকরির বড়ো আকাল সেসময়ে।
স্কুলে সীমন্তিনী গল্পের বই নিয়ে যেতো। অফ পিরিয়ডে এককোণে বসে পড়তো। একটা ভালো ব্যাপার ছিলো যে ছেলে এবং মেয়েদের টিচার্সরুম আলাদা। তবে মিটিংএর সময় বা প্রেয়ারের সময় সবাইকে একসাথে থাকতেই হতো। সীমন্তিনী চুপচাপ বলে সবারই ওর সাথে কথা বলার একটা আগ্রহ ছিল। শোভনাদি বা গার্গীদির সাথে ওর বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। গার্গীদি তো রীতিমতো ওকে কলিগদের সম্পর্কে একটা ডাটাবেজ তৈরি করে দিয়েছিলেন। প্রিন্সিপাল স্যার তাঁর তরুণী ভার্যাকে ভীষণ ভয় খান। রথীস্যার বৈষ্ণবপদাবলীর ক্লাস নিতে নিতে বড্ড একাত্ম হয়ে পড়েন। মেয়েরা ওনাকে কেষ্ট আর ছেলেরা আড়ালে আলুস্যার বলে ডাকে। দীপ্তেন্দুর নতুন বিয়ে, মেয়েটার ও প্রাইভেট টিউটর ছিলো। অনিমেষ ওদের সাথে চাকরি পেয়েছে। বড়লোকের ছেলে, যেকোনো দিন চাকরি ছেড়ে দেবে। শুধু সুতনুর সম্পর্কে বলতে গিয়ে হেসে ফেলেছিল, ও একটা উৎকৃষ্ট শ্রেণির পাগল।
সেই পাগলটাই ভর করলো সীমন্তিনীকে। একদিন হঠাৎ মেয়েদের টিচার্সরুমে ঢুকে সীমন্তিনীর হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেয়, সবার সামনেই। জানা গেলো তাতে একটা ইএনটি স্পেশালিষ্টের ঠিকানা আছে। সবাই যখন প্রায় হামলে পড়ে কাগজটার মধ্যে গোপন কোনো ইঙ্গিত খুঁজতে ব্যস্ত তখন খুব সিরিয়াস মুখ করে সুতনু বলে “খুব ভালো ডাক্তার, আমার এক ভাগ্নে কথা বলতে শিখছিল না। ওনার কাছে গিয়ে উপকার পেয়েছে।”
তারপর থেকে সীমন্তিনী ওর সাথে কথা বলতে প্রায় বাধ্য হলো। কয়েকমাসের মধ্যেই বুঝতে পারলো মানুষটা বেশ মজার। আধখানা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সীমন্তিনী বোঝে ও সুতনুকে বেশ ভালোবেসে ফেলেছে।
কিন্তু বাবার মুখ মনে পড়ে যেতো বলে ওর ভালোলাগাটা প্রকাশ করেনি সুতনুর কাছে। প্রেমজ বিয়ে বাবা মানবে না, তার ওপর সুতনুরা অন্য বর্ণের। বাবা অশান্তি করবে। তবে ওরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলো।
সুতনু স্কুলের কাছেই থাকে, একদম স্টেশনের কাছে ওদের বাড়ি। সীমন্তিনী প্রায়শই ওদের বাড়ি গিয়ে এক-আধ ঘন্টা কাটিয়ে স্টেশনে যেতো বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরতে। মেসোমশাই মাসিমাও সুতনুর মতো মিশুকে, প্রথমবার দেখা হতেই আপন করে নিয়েছিল ওকে।
সেদিন অসময়ের বৃষ্টি নেমেছিল। মাসিমা সুতনুকে বলেছিলেন সীমন্তিনীকে স্টেশনে ছেড়ে আসার কথা। বৃষ্টি অনেক না-বলা কথা বলিয়ে দেয়। একটা ছাতার তলায় থাকা দুটো মানুষকে অঝোর ধারার বৃষ্টি সবার থেকে আড়াল করে দেয়। আর দুটো মানুষের মধ্যের আড়ালটা পলকা বাঁধের মতো ভেঙে দেয়। ভেজা ঠোঁট তুলে সীমন্তিনী বলেছিল “বলো”। সুতনু যেন জানতো কি বলতে হবে। সীমন্তিনীর কানের কাছে মুখ এনে গেয়েছিল- ” ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো..”।
পূজোর ছুটিতে দীঘা যাবার পরিকল্পনাটা সুতনুর। শোভাদি আর ব্রতদা স্বামীস্ত্রী, সস্ত্রীক দীপ্তেন্দু, আর একমাত্র অবিবাহিতা মেয়ে সীমন্তিনী। কারো চোখে যেন না লাগে সেজন্য অনিমেষ সহ আরো চারজন টিচারকে ম্যানেজ করেছিল সুতনু। ওদের প্রেমের ব্যাপারটা তখনও কেউ জানতোনা।
সীমন্তিনী বাড়িতে বলেছিল যে স্কুল থেকে পাঠাচ্ছে। শিক্ষয়িত্রীরা যাচ্ছে জেনে বাবা আর আপত্তি করেনি। আগেরদিন দেখা করতে এসেছিল সুতনুর সাথে। সেদিনও অসময়ের বৃষ্টি। বৃষ্টি বোধহয় জানতো মাসিমা মেসোমশাই বাড়ি থাকবেনা। দোতলায় সুতনুর ঘর ঘিরে সেদিনও ফোঁটাগুলো ওর দেহের ঘামের মতো ঝরে পড়ছিল। বাইরের ঝোড়ো হাওয়ার মতো সীমন্তিনীর শ্বাস মিশে যাচ্ছিল সুতনুর শরীরে। সীমন্তিনী অনেক কিছুই ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারতোনা। অনিমেষও যে ওকে ভালবাসে সেটা জানলো দীঘা যাবার পথে। ওরা দুটো গাড়ি ভাড়া করে নিয়েছিল। কোলাঘাটে সবাই নেমেছিল চা খেতে। পাটা ছাড়িয়ে নিতে সীমন্তিনী একটু হাঁটছিল। হঠাৎ দেখে পাশে অনিমেষ। খুব নিচু গলায় বলে যে কথা আছে ওর। হতভম্ব হয়ে যাওয়া সীমন্তিনীকে ওখানেই ভালোলাগার কথা শোনায় অনিমেষ।
ভুল হয়ে গিয়েছিল সীমন্তিনীর। দীঘা পৌঁছে চুপিচুপি কথাটা জানিয়ে দেয় সুতনুকে। তিনজন মহিলা একঘরে আর পুরুষরা অন্য দুটো ঘরে ভাগাভাগি করে শুয়েছিল। অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সী পাঁচজন কাউকে না জানিয়ে মদ্যপান করেছিল। ভোররাতের দিকে অনিমেষ আর সুতনু বেরিয়ে যায়। নাহ্, বাকি তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছিল ওদের মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাটি হয়নি। অনিমেষই ছুটতে ছুটতে এসে খবর দেয় ও আর সুতনুকে খুঁজে পাচ্ছেনা।
সুতনুর জলে ডোবা ডেডবডিটা মেলে বেশ বেলায়।
স্কুলের সেক্রেটারি তখন রুলিংপার্টির বড়ো লিডার। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঘটনাটা ধামাচাপা দেন।
দীঘা থেকে ফিরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সীমন্তিনী। সেইসময়টায় ওর পাশে ছিলো অনিমেষ। বাবাকে সামলানো, ডাক্তার দেখানো সবই করতো অনিমেষ। প্রায় চারমাসের মাথায় ধরা পড়লো সীমন্তিনী প্রেগন্যান্ট। ডিপ্রেশনটা ততদিনে কিছুটা কেটেছে ওর। বুঝতে পারার সাথে সাথে অনিমেষ আবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় ওকে। ডাক্তারবাবু জানায় যে অ্যাবরশন করা সীমন্তিনীর জন্য বেশ বিপজ্জনক।
অনিমেষরা পালটিঘর। আর সীমন্তিনীর বাঁচার কোনো উপায় ছিলনা। দুজনেই চাকরিটা ততদিনে ছেড়ে দিয়েছে। বিয়ের পাঁচমাসের মাথায় রোমিলা হয়। বাবা বছরখানেকের মধ্যে মারা যায়।
রোমিলাকে সবসময় আগলে রাখতো সীমন্তিনী। কোনোদিন যে অনিমেষকে জিজ্ঞেস করে উঠতে পারেনি ঠিক কিভাবে মারা গিয়েছিল সুতনু। একটা অদ্ভুত সন্দেহ মাথার ভেতর রক্ত ঝরাত।
দুজনে সাগরতীরে ঝিনুক নিয়ে খেলছিল। সুতনুর দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে সীমন্তিনী একটা ঝিনুক ওর হাতে তুলে দেয়। “অনেকদিন আগলে রেখে ছিলাম।”
তারপর দুজন ডুবতে থাকা সূর্যের দিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে থাকে।
++++++++++++++++++++++++++++++++++
