অনিকেত দেবনাথ-এর কবিতা
মৃত নদী/ অনিকেত দেবনাথ যে নদী মরে গেলো অবহেলায়তার গভীরতার আর কোনো তাৎপর্য নেই। সূর্য ওঠে পুরোনো প্রেমিকার মতোচিক চিক করে ওঠে সারাটা বুক। যারা দূর থেকে দেখে সকলেই ভাবে— সুন্দর…
কবিতা
মৃত নদী/ অনিকেত দেবনাথ যে নদী মরে গেলো অবহেলায়তার গভীরতার আর কোনো তাৎপর্য নেই। সূর্য ওঠে পুরোনো প্রেমিকার মতোচিক চিক করে ওঠে সারাটা বুক। যারা দূর থেকে দেখে সকলেই ভাবে— সুন্দর…
নরকের নবম বৃত্ত বলিকাঠ ও পাঁঠা তোমার মনে আছে, চেনা সিল্যুয়েটে ক্রুশে বেঁধা যীশু’ ক্রোমোজমে, ধীরে জমেছে তোমার যেহেতু নতুন কোন নরক দরজা খুলছে না, মৃত চরাচরে মাছ ও মেয়ে ডাকা নিশি’রা অনায়াসে ধরা পড়ে জালে অযুত লোমশ স্তুপ, জিভ চেরা ছুরির ধারে এমন ঝলক মশাল প্রদীপ অথবা মোমবাতি আলোর প্রয়োজন পড়ে না নিরুদ্দেশ মেয়ে’র…
বাড়িটা আমার অনেক বছর পরে এলাম বাড়িটার সামনে থমকে গেলাম। বাড়িটা আমার ভালো লাগার ভালোবাসার বড় হয়ে ওঠার। বারোঘর এক উঠান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। উঠোনটা আমার ভালো লাগার ভালোবাসার বড় হয়ে ওঠার। স্বপ্ননীল আকাশ, ছাদের এককোণ কিশোর মনের খবর রাখেই বা কজন। ছাদটা আমার ভালোলাগার ভালোবাসার বড় হয়ে ওঠার। রুপোলি গ্ল্যামার চুলের ফাঁকে ছেলেবেলা তবু হাতছানি…
দুপুরে কানন বালার বাড়ির সামনে বৃষ্টি শীতকালটুকু চেয়ে নিয়েছিলাম আমিওদের প্রবন্ধপাতা থেকেআর ১৩৭৫ টাকা মাইনে পকেটে নিয়ে ঘামছিলামআমার পাহাড়আমি পারিনি বয়ে বেড়াতে। কারাসূর্যকে পাহারা দেয়আরপরিত্রাণহীনের কাফেলায় পেছন পেছন হাঁটে? নীল রঙের শেয়াল — ওকে আমি শেখাইনি কিছু,‘বৃষ্টির ভেতর খেলবো সূর্যটাকে নিয়ে,আমি আর হাবা কয়েকটা নেকড়েছানা’ও বলে,‘কুয়াশা আমার মা’–নীল রঙের লেজ দুলিয়ে ও চলে যায়। নিগূঢ়…
১। ।।লিপি।। মিশরের ফ্যারাও এসেছিল, প্যাপিরাস কাগজে আঁকা দিয়ে গেল নীলনদ,পিরামিড আর অক্ষরলিপি, এসপারান্তো নয় লিপিপাঠ হয়ে গেছে শতাব্দীর মাঠে। লিপি নিয়ে কী করি এখন ! এককপি দিতে পারি অধীশ্বরকে মিশরীয় নারীর মতো বড় চোখে পড়ুক গুপ্তকথা, কী লেখা তাতে? লেখা,এমন এক কৃষিপ্রধান সভত্যার কথা যেখানে ধর্ম বলে কিছু নেই, শ্রম ছাড়া। অধীশ্বর পড়ুক, জানুক।…
প্রেমানল ! সে যে ভীষণ জ্বালা ! ধিক্ ধিক্ করে শেষ করে দেয়, ভেতরের সব কে। জ্বালায় ! ভীষণ জ্বালায়। ভাবিয়ে তোলে দিনভর, উত্তরোত্তর জ্বালার আসর। যন্ত্রনায় শেষ করে দেয়- একাকীত্বকে। অন্তঃসার শুন্য ! ঘুমন্ত স্বপ গুলো কোথাও কোথাও, বিন্দু বিন্দু হয়ে লুকিয়ে থাকে। ভয় পায়। শেষ টুকু আসা নিয়ে, বেঁচে থাকতে চায়- আগায়।
মধ্যবিত্তের হিসেব নিকেশ কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় সকালবেলার চায়ের কাপে যে ধোঁয়া উঠছে, তার ভিতরে জট পাকিয়ে জড়িয়ে থাকে মাসের শুরুর চেনা উদ্বেগগুলি, যা বলে, নিজেকে আরও লুকিয়ে ফেলতে! বাজারের থলি হাতে দাঁড়িয়ে থাকে যে মানুষটি তার পিঠে অদৃশ্য এক ক্লান্তির বোঝা, যা হয়ত সে নিজেও টের পায় না আর তার বোঝা কোনোদিন কমেও না। সংসার আর…
রাত্রিকালীন ভুজঙ্গাসন , পিতামহের শুক্রবাহী নল ও অ-পৃথিবীর ভৌতিক বস্ত্রালয় প্রেতপুরীর উত্তপ্ত ম্যাগমার আলফা রেডিয়েন্টের থেকেও আরো ভ্রুণময় কুড়ি লক্ষ বসুদেবের জনুক্রম থেকে নিঃসৃত নিকোটিন ভর্তি সামুদ্রিক ঝড় পচন নাড়িভুঁড়ি অসুখের অসহিষ্ণু মাংসের প্রতিধ্বনি জলচরে ঝুলতে থাকা কোন লাইলনের মূর্তি দেখে তুলছে ভুজঙ্গাসন মুদ্রায় , মধ্যরাতে পুরুষত্বহীন কুকুরের মতো মোমবাতি জ্বেলে ট্রাম ডিপোর কাছে প্রস্রাবখানায়…
মৃত নদী যে নদী মরে গেলো অবহেলায়তার গভীরতার আর কোনো তাৎপর্য নেই। সূর্য ওঠে পুরোনো প্রেমিকার মতোচিক চিক করে ওঠে সারাটা বুক। যারা দূর থেকে দেখে সকলেই ভাবে— সুন্দর…
জন্মবৃত্তান্ত রাত্রি গড়িয়ে বাংলোবাংলো গড়িয়ে মদমদ গড়িয়ে বমিবমি গড়িয়ে ভোর… ভোর ছুঁয়েছে স্নানস্নান ছুঁয়েছে সাগরসাগর ছুঁয়ে আছে জাল.. জালে ধরা পড়ছে জন্মবৃত্তান্ত!