কবিতা

কবিতা

  • ‘সার্চলাইট’ – শাশ্বত গঙ্গোপাধ্যায়

    ‘খুব দুর্লভ অর্কিড আমি, সংগ্রহ করা সত্যি কঠিন’এই বলে তুমি, হঠাৎ বিকেলে কর্পূর হয়ে উবে গিয়েছিলে আমি একা একা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জীবন্ত এক ফসিল হয়েছিফ্লুরোসেন্ট বোর্ডে অক্ষর থেকে উপচে পড়েছে সাবানের ফেনাভেসে থাকা চাঁদ, রক্ত মাখানো মিহি কাগজের চীনে লন্ঠনযত রাত বাড়ে, এত কনকনে হাওয়া দেয়,যেন গোটা কলকাতানির্জন কোনো উপত্যকার জেগে থাকা এক পাহাড়ি শহরহেয়ার…

  • দেবী শান্ত হও…. দেবজ্যোতি সিংহ রায়

    ধীর পায়ে বেজে চলো আজ,শান্ত হও,শান্ত  অতিদূর আলোকপ্রবাহ তৃষ্ণাকাতর হয়ে  ছড়িয়ে পড়ছে বিদ্যুৎচকিত সম্মোহনে। তোমার ধ্বনিত জিভের রহস্যঘন শব্দে ক্রমশ ভেসে যাচ্ছে শেষ বৈতরণীর ভক্তিরস।  ধীর পায়ে বেজে চলো আজ,শান্ত হও,শান্ত  দ্যাখো মর্ত্যলোক আচ্ছন্ন করে আসে মায়াজাল  জোৎস্নারাত থেকে ঝ’রে পড়ে সহস্র বছর  গিলে খায় পৃথিবীর স্তনবৃন্তে ফুটে ওঠা ভাগ্যরেখা। ধীর পায়ে বেজে চলো আজ,শান্ত…

  • বসন্তকিরম – দেবাঞ্জন দাস

    ১.  বাড়ির মায়া ঝগড়া  চুমু খাচ্ছে অর্জুন গাছে  তোমার ছালের হৃদয়  উচ্চারণ ভুল কোরো না  ভালোবাসা জেনো রক্তজবা  ভুনতে ভুনতে বিকেল চলে আসবে  দাঁতে আটকাবে  গরুর মাংসের ফাইবার  তারপর টুথপিক          কত ডিসক্রিট          কত চার্ম অফ বুর্জোয়াজি  কে বলবে  কচি বাছুর দৌড়চ্ছে       মাঠ ঘাট নদী প্রেমিকা…

  • সুকান্ত স্মরণ – সুদক্ষিণা গুপ্ত

    বাংলার সাহিত্যকাশে জাজ্বল্যমান রবি,সেই সময়ে হচ্ছে বড় ছোট্ট কিশোর কবি।কবি তো নয় শুধু, সে তো গল্প নাটক লেখে,তবুও তার মন কেঁদে যায় গরিব দুঃখী দেখে।পরাধীন দেশে তখন গরীবি সীমাহীন,বেশিরভাগ লোকের তখন চলে না তো দিন।মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ধান গোলাভরা ,কলের মালিক কারো ব্যাঙ্ক কালো টাকায় ভরা।শ্রমিক কৃষক, ক্ষেতের মজুর, পায় না খেতে ভাত,বস্ত্র নেই, ঘরও…

  • মৌলিশা সরকারের কবিতা

    তোমাদের জড়তা,মাছ বলে ছেড়ে আসি উত্তর ছেড়ে আসিদক্ষিণের অভ্যাস আমাকে পেয়ে বসছেএইমাত্র আমার মড়া বিড়ালটি পুস্তানির কাগজে মুড়েছুঁড়ে এলাম, অশিতী হাওয়ায়অতসী গাছ বাবা বলেন ওরা গান গায় হাওয়া দিলেপিতামহ ছেড়ে গেছেন অনন্ত জলের ঠিকানাঠাকুমা কে ভাসানো হয়, ভেসে গেছে মামলা বাড়িইট কেটে অ্যাকোয়ারিয়াম হয়েছে , তোমাদের জড়তামাছ বলে ছেড়ে আসি মৃদু জলেবমি পায়, থকথকে শব্দের…

  • নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত – দীপশিখা ভট্টাচার্য

    তোর পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ে!পুরনো কেন বলছি?হারিয়ে যাওয়া বা স্বেচ্ছায় ছেড়ে আসা..হঠাৎ তাদের মুখ, তাদের চিবুক ছুঁয়ে যাওয়া গোধূলির আলো।মনে পড়ে?মনে পড়লে কী করিস?খুঁজতে ইচ্ছে করে আরেকবার মনে হয় দেখিফেলে আসা সন্ধের গান, সিগারেট, ভীষণ উষ্ণ শহরে শিরশিরে ঠান্ডা স্পর্শ তুমি প্রেম—হয়তো তখনই টেক্সটে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে তোকেআটা, ডাল, চাল, চা, চাহিদা, কিস্তিতে…

  • চতুর্থ বর্ষ-দ্বিতীয় সংখ্যা-কবিতা

    কেন হে মৃত্যু, কেন হে জীবনঈশান বন্দ্যোপাধ্যায় অন্ধকারেমৌনতাটি বাড়েখসে পড়ে মৃতের মুকুটরাস্তায় পেরিয়ে যায় পণ্যবাহী উটকে বাজায় স্তব্ধতার এ নীল গ্রামাফোনঅপার্থিব মায়ার কাহনমৌনতাটি বাড়েঅন্ধকারে দিন যায়হাওয়ার পর্দায়প্রেরণাদিবস কবে আসেআশঙ্কা পোষা জন্তুর মত পাশেবসে থাকে, সমাধি-কাব্য এই দু’হাতে নিথরপুড়ে খাক প্রিয়তম ঘরহাওয়ার পর্দায়দিন যায় মেঘজলআছে অবিচলঢেউ ভাঙে মননে, শয্যায়জোনাকির জন্মনাম ডেকে যায়ধারালো ছুরি যেন, গান্ধর্ব উপকথাময়,…

  • চতুর্থ বর্ষ -প্রথম সংখ্যা -কবিতা

    খিদে অন্বেষা দে অভাবের নামে কুড়িয়ে রেখেছি খিদেপাত পেরে বসে ধর্ম, রাজনীতি;এবার ভোটে জিতলে ওরা ঠিকমিটিবে খিদে এটা নিশ্চিতই! খিদের ধর্ম নেই, জাতপাত নেই, না আছে কাঁটাতার;খিদে তো সেই এঁটো থালার অভাবী অহংকার! জমেছে খিদে পেটের ভিতর, মরছে আবার পেটেইরাজার নীতি আঙুল তুলে বললে, খেতে খেটে। খিদে মেটানোর বীজ বুনেছি তাইজ্বর যখন একশো’র ঠিক মাথায়,শবদেহতেও…

  • তৃতীয় বর্ষ ✦ দ্বিতীয় সংখ্যা ✦ কবিতা

    ফিচার ছবি : অঙ্কিতা বিশ্বাস দুর্গা ডাঃ সুপ্রতিম মন্ডল তোমার দুর্গা মারা গেছেঅন্ধ সমাজ ,আগুন জ্বলে,সেই আগুনে জমা আঁধারঠান্ডা শরীর কথা বলে। সেই যে শরীর শুধুই নারীর!?মুখ বাঁধা তার একটা কাপড় নগ্ন সমাজ তারই মতনআজ গণতন্ত্র সন্ত্রাসের গড়। পচে গেছে যেখানে শিকড়সেই গাছে ফলবে কেমন করেনতুন ফল…..রক্ত শীতল বিচার চায়জানতে চায় না কে কোন দল।…

  • তৃতীয় বর্ষ ✦ প্রথম সংখ্যা✦ কবিতা

    সুগন্ধি মিঠু নাথ কর্মকার বাবার উদলা পায়ে ক্লান্তির ধুলো ভেঙে ‌সন্ধ্যা নামলে মা তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালায় উঠোন জুড়ে ঘামের সুগন্ধি মঁ মঁ করে ওঠে। আমরা সম্মোহিত হই। পায়ে পায়ে পৌঁছে যাই বাবার চলৎশক্তির চক্রবূহ্যে তৃতীয় করাপড়া ফিনফিনে হাত পিঠ বেয়ে মাথা ছুঁলেই বটগাছের ঘেরাটোপে এলিয়ে দিই অর্জিত সমস্যার জট মৃদুমন্দ বাতাসে দুলে দুলে পাঠ করি…