কবিতা

কবিতা

  • বন্দিশ ঘোষ এর কবিতা

    ছন্নছাড়া রাস্তা ছেড়ে দাঁড়াও –আমার বাড়ি ফেরার দিন এসে গেছে,বস্তি ভেঙে যায়,একতলা বাড়ি হয় দুতলাচারতলা হয় আটতলা –ক্রমশ দিঘির পাড়ে নারকেল গাছভাবে আর হাসেরহস্যময় দিগন্ত রেখার দিকে তাকিয়ে…সে রাস্তার কোনো শেষ নেই,তখন বুঝি জাগতিক অর্থে আমি ছন্নছাড়া –নির্জন পৃথিবীর এই ঘুরন্ত চাকার হিজিবিজি রহস্যআমার মাথায় ঢোকে না…সাড়াশব্দহীন এলোমেলো ভাবনার পোকাগুলোমাঝেমধ্যেই নড়ে ওঠে আমার মাথার ভেতর……

  • পূষণ ভট্টাচার্য এর কবিতা

    যোগক্ষেমং বহাম্যহম সেদিন তোমায় দেখেছিলাম তোমার স্বর্ণরথে উদ্বেলিত দুই বাহু জয়ধ্বনি মুহুর্মুহু উচ্ছ্বসিত নর নারী দ্বারকার রাজপথে । তোমার শ্যামবরণ স্নিগ্ধনয়ন প্রেমের অলঙ্কার অধরে মধুর হাসি অগাধ ভাবের রাশি আনন্দ সমুদ্রে ভাসি হেরি লীলাবাহার। তোমার বিরহে কাতর রাধিকার নয়ন যমুনার ঘাটে ঘাটে চিন্ময় লীলাপটে বাঁশরীর সুরে ভাসে ব্রজ – বৃন্দাবন । নদীয়ায় উদিলে তুমি হয়ে…

  • সৌরভ মহান্তি এর কবিতা

    ঈর্ষা ১.আমাকে রাখেনি কেউ। এই ভর দুপুরে একলা চুপ করে বসে থাকি। পাতা ঝরা বিকেলের মত একটা নিস্তরঙ্গ জীবন চেয়েছিলাম আমি।অথচ, চোখের জলের মত নিঃশব্দে ঢেউ এসে ভেঙে গেছে বারবার। এই ভাঙা চোরা অস্থির মন নিয়ে আমি একটি মানুষের কাছে যেতে চেয়েছি বারবার। অথচ দু-পা এগিয়ে, পিছিয়েছি মাইল খানেক। মনে মনে ভেবেছি, আমার উঠোন জোড়া…

  • অরূপরতন ঘোষের কবিতা

    প্রজাতান্ত্রিক কবিতা ৩৮ উত্তর ২৪ পরগনা তোমার মত করে কোণাকুণি দাঁড়ায়নি কখনওভাবিনি ধুতুরা গাছের কথাঅলির অজান্তে বাসস্টপে নেমে নীলশিশি থেকে দু এক ঢোক খেয়েছি আরক আর ভেবেছি সামান্য এক কৌশিকের কথাঅশোকনগরে সেইবার অল্প জ্বরের কথাযেভাবে ঘুঙুরের শব্দ, প্রায়বাকরুদ্ধ মাটিতে আছড়ে পরেছিল মেঝেতে দুপুরেস্নানাহারের সামান্য পরে! অন্তত ঘণ্টা দু এক ট্রেন ছিল না কোনও দুই দোলনের…

  • ঈশ্বর – তন্ময় ভট্টাচার্য

    খানিক ওপর থেকে টুপ করে ছেড়ে দিলেকীরকম প্রাণী তুমি, সামলে নেবে, না ফেটে চৌচিরনাকি উড়ে ওপরে পৌঁছোবে আরওআগামার্কা কৌতূহল নিয়ে তিনি বসেছেনসময় কাটাতে, প্রাণপণে কামড়ে ধরো তাঁর হাত

  • মৌনি মণ্ডলের কবিতা

    ২ তোমার দিনটা ভালো হোক বলতে ভালোই লাগেসেদিন তনুজ বললো, সাহস থাকলে এটা পড়োহঠাৎ করে কেউ সাহসের কথা বললে আমি চমকে যাইচমকে গিয়ে দেখলাম, একটা বই কোনও মানে না নিয়েই আমার হাতে এসে পৌঁছেছেএকজন লেখক যখন লেখা ভুলে সাহসের কথা তুলে ধরেআমার ভয় করেজীবন একটা ঘটে যাওয়া ঘটনাকাউকে রক্ত দিইনি, অনেক দিন হলো রক্তের পরীক্ষা…

  • ‘রাত বারোটা’ – চন্দন ঘোষ

    সে এখন আর জানতে চাইছে নাবারোটা জোলাম-এ সত্যিই কেউ মরে কি নাশুধু কেউ তাকে একবার বলে দাওরাত বারোটায় কি ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে#জন্ম দেওয়া অত্যন্ত সোজা ব্যাপারকিন্তু বাবা হয়ে উঠতে চাওয়া নিতান্ত জটিল অঙ্কদূরত্ব এক নীল আতঙ্কের জন্ম দেয়দূরত্ব বাড়তে বাড়তে প্রদীপের নিচে নির্জনতা#কেউ তাকে এখুনি দুটো উদগ্রীব ডানা দাওরাত বারোটার আর খুব একটা বেশি…

  • বন্দিশ ঘোষের কবিতা

    মাতব্বর আরেকরকমভাবে দেখা যায় সবকিছু –চারিদিকে শুধু ঘর্ষণ আর ঘর্ষণঅনবরত বিস্ফোরণ!নষ্ট হয়ে যাওয়া আলোবাতাসহীন একটা মাথা,মাতব্বর, মূর্তিমান ভণ্ড একটা প্রাণীযার সারা শরীরে জাপটে ধরে আছে পাপ –যে দিনরাত দখল নেয়একের পর এক গ্রাম, শহরের অলিগলিআর চেটেপুটে খায় ঈশপের সব গল্পগুলোমান্ধাতা আমলের তৃষ্ণা নিয়ে… পেছন ফেরার রাস্তায় নেশাগ্রস্ত নদী হয়ে বয়ে যেতে ইচ্ছে করেসে বিকেল তিনটে…

  • অনিকেত দেবনাথের কবিতা

    চোখের বন্ধু যেখানে প্রেম শেষ হলো,সেখানে একটা ছাতা নিয়ে এসো। বৃষ্টিছাটে বুকে ভিজে যাকচোখ থাকুক রোদ খটখটে। ছাতা আসলে চোখের বন্ধু,হৃদয় আজীবন একলা। এমন বৃষ্টিতে এমন বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি হয়না।জানালা খোলা রাখলেও ঝাপটা আসে না,রাস্তায় তেমন জল জমে না,মানুষ খালি মাথায় বেরোলেও ভিজে যায় না। অথচ বৃষ্টি হচ্ছে…এমন বৃষ্টি হচ্ছে— যেনো কেউ শত চেষ্টা করেওকষ্ট…